তারাপীঠের (Tarapith) মূল গর্ভগৃহে মিলবে না দেবীর দর্শন। আগামী প্রায় এক মাস শিবমন্দির থেকেই ভক্তদের দর্শন দেবেন মা তারা। প্রায় ২৫ দিন ধরে চলবে তারাপীঠ মন্দিরের সংস্কারের কাজ। মন্দির সংস্কারের জন্য পুজো বা দর্শন বন্ধ থাকছে না। বরং ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বিকল্প ব্যবস্থা করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার পর নিয়ম মেনে মা তারার বিগ্রহকে মূল গর্ভগৃহ থেকে সরিয়ে শিবমন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহালয়ার (Mahalaya) আগের রাতে ফের মূল মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হবে দেবীর বিগ্রহ। 

আরও পড়ুন: হাত-পা বাঁধা, নন্দীগ্রামের পুকুরে ৭০ বছরের বৃদ্ধার মৃতদেহ!

মন্দির সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে কৌশিকী অমাবস্যা কাটার পর, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের পরামর্শ মেনেই চলছে এই কাজ। মন্দিরের ভিতরের পাশাপাশি বাইরের অংশেও সংস্কার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধান করে ভক্তদের দর্শন আরও স্বচ্ছন্দ করতেই এই উদ্যোগ।

সংস্কারের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে মন্দিরের দর্শন ব্যবস্থায়। নাটমন্দির থেকে যাতে ভক্তরা আরও সহজে মা তারাকে (Maa Tara) দেখতে পান, সেই জন্য মূল মন্দিরের দরজা প্রায় এক ফুট উঁচু করা হচ্ছে। পাশাপাশি মায়ের মূল বেদির উচ্চতাও প্রায় আট ইঞ্চি বাড়ানো হবে। ফলে সামনে থেকে ভক্তদের দর্শনের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় সুবিধা হবে।

আরও পড়ুন: জোড়াফুল কার দখলে? শেষ নথির অপেক্ষায় কমিশন, শুক্রবার স্ক্রুটিনি

শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন নয়, মন্দিরের সাজসজ্জাতেও থাকছে নতুনত্ব। গোটা মন্দিরে নতুন করে রং করা হচ্ছে। পুরনো টেরাকোটার কাজও সংস্কার করে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে তারাপীঠ মন্দিরের চেহারায় বেশ কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাবে।

বর্তমানে মা তারা শিবমন্দিরে থাকায় সেখানে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র গেট ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কৌশিকী অমাবস্যার মতো ভিড় না থাকলেও পুজো দিতে বা দর্শনের জন্য কিছুটা বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে নিত্যপুজো, আরতি থেকে ভোগ নিবেদন, কোনও রীতিই বন্ধ হচ্ছে না।

অর্থাৎ তারাপীঠে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে মন্দির বন্ধ থাকার কোনও প্রশ্ন নেই। শুধু বদলে যাচ্ছে মায়ের স্থান। সংস্কারের কাজ শেষ হলে ফের নিজের মূল গর্ভগৃহেই ফিরবেন মা তারা। আর তখন নতুন সাজে ভক্তদের জন্য খুলে যাবে চেনা তারাপীঠের দরজা।