জোড়াফুল প্রতীক পাবে কোন শিবির! সিদ্ধান্তে পৌঁছতে দুই শিবিরের কাছেই প্রামাণ্য নথি চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। আর সেই নথি জমা দিতে দিনের পর দিন অতিরিক্ত সময় চেয়ে এসেছে ঋতব্রত শিবির। ফলে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে লেগেছে অতিরিক্ত সময়। তবে এবার আর সময় বাড়ানোর অবকাশ নেই। সিদ্ধান্তের একেবারে দোরগোড়ায় নির্বাচন কমিশন। বুধবার দুপুর ৩টের মধ্যে ঋতব্রত শিবিরকে নথি জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে, মমতা-পন্থী তৃণমূলকে বিকেল ৪টের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ বুধবারই দুই শিবিরের কাছ থেকে নিজেদের দাবির পক্ষে শেষ দফার প্রমাণ হাতে পেতে চাইছে কমিশন।

আরও পড়ুন: চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে ধাক্কা পাক রণতরীর! অপেশাদার বলে তুলোধনা নয়াদিল্লির

সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু নথি জমা দিয়ে আরও সময় চাওয়ার পথে হাঁটতে পারে মমতা শিবির। অতীতে ঋতব্রত শিবিরকে একাধিক বার সময় দিয়েছে কমিশন। এবার সেই কৌশলে পাল্টা চাল দিতে পারে মমতা-পন্থী তৃণমূল। ফলে বুধবার বিকেলের পরও প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও কিছুটা সময় লাগার সম্ভাবনা থাকছে। তবে গোটা প্রক্রিয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুক্রবার। বুধবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন জমা পড়ার পর শুক্রবার হবে স্ক্রুটিনি। প্রয়োজন হলে তার আগে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে ডেকে বক্তব্য শুনতে পারে কমিশন। পরিস্থিতি অনুযায়ী জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু দুই শিবিরের দাবি বা জমা দেওয়া নথিই নয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোও খতিয়ে দেখবে কমিশন। দলের সংবিধান অনুযায়ী চেয়ারপার্সনের মেয়াদ কত বছর, সেই মেয়াদ সংক্রান্ত বিধি কী, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক কবে কবে হয়েছে এবং সেই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সবই খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন: বদলেছে সরকার, বদলায়নি কলেজের ছবি! পরিচালন সমিতিতে বিজেপি হেভিওয়েট নেতাদের ভিড়

এর পাশাপাশি, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের যথাযথ ভাবে ডাকা হয়েছিল কি না, দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংগঠনিক সদস্য, বিধায়ক ও সাংসদদের মত কোন দিকে রয়েছে, তাঁদের সেই বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, এই বিষয়গুলিও কমিশনের বিবেচনায় আসতে পারে।

বুধবারের নথি জমার পরই স্পষ্ট হবে, প্রতীক-যুদ্ধ কোন দিকে এগোচ্ছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত যেদিকেই যাক, তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি দুই পক্ষেরই রয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরও জোড়াফুল নিয়ে আইনি লড়াই গড়াতে পারে আদালতে।