উপনির্বাচনের আবহে বড়সড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়ল ঋতব্রত শিবির। দলবিরোধী কার্যকলাপ ও হুইপ অমান্য করার অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের ১০ জন বিধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁদের এই নোটিশের লিখিত জবাব পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সংবিধানের দশম তফসিল অর্থাৎ দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবিরের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতেই স্পিকার এই পদক্ষেপ করেছেন। নোটিশে স্পষ্ট জানতে চাওয়া হয়েছে, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে চলা এবং দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার কারণে কেন সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বিধানসভার সদস্যপদ খারিজ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে না। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে তাঁদের অবস্থান বিশদে ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নোটিশ জারির সময়কাল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য এই শিবিরের দুই প্রার্থীর মনোনয়ন পেশ করার কথা রয়েছে। ঠিক তার মুখেই স্পিকারের এই কড়া পদক্ষেপ বিদ্রোহী শিবিরের ওপর প্রবল রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল। পাশাপাশি, তৃণমূলের প্রতীক ও দলীয় নাম ব্যবহারের অধিকার নিয়েও দুই পক্ষের বিবাদ বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন যে কোনও দিন এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ওই ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে মমতাপন্থী শিবির ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা সেই আবেদনের কথা নিশ্চিত করেছেন দলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আইনি তৎপরতার মধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে সরাসরি নোটিশ পাঠানো রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
















