পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির অদূরে জুনপুটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) প্রস্তাবিত মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এলাকায় ডিআরডিও-র এই বড় প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করার পরই সংশ্লিষ্ট মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

উপকূলবর্তী জুনপুট ও তার সংলগ্ন এলাকার অর্থনীতি মূলত মৎস্যশিল্পের উপর নির্ভরশীল। মৎস্যজীবী ও একাধিক স্থানীয় সংগঠনের দাবি, এই ধরনের প্রতিরক্ষা প্রকল্প গড়ে উঠলে এলাকার হাজার হাজার মৎস্যজীবীর দৈনিক রুজি-রুটি ও দীর্ঘদিনের বাসস্থান প্রভাবিত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পূর্ববর্তী সরকারের সময়কালেও স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের আপত্তির মুখে জুনপুটে ডিআরডিও-র ‘ফ্লাইট ট্রায়াল’ সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরির কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব ও বিকল্প সম্ভাবনার দিকটি তুলে ধরে সরব হয়েছে বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনগুলিও। ব্রেকথ্রু সায়েন্স সোসাইটির রাজ্য সম্পাদক অধ্যাপক তপন কুমার শী জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান ও এলাকার অর্থনীতির স্বার্থে সেখানে মৎস্যভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কিংবা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার ঘটানো অনেক বেশি কার্যকর হতো। তাঁর মতে, জাতীয় প্রতিরক্ষার স্বার্থে মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপন জরুরি হলেও, তা এমন কোনও বিকল্প ও জনবসতিহীন স্থানে করা উচিত যেখানে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

প্রশাসনের তরফে প্রকল্পটিকে এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি পুনর্বাসন এবং জীবিকার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।