আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical College Hospital) তরুণী চিকিৎসক- পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে শিয়ালদহ আদালতে ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট (Status Report) জমা দিল সিবিআই (CBI)। নতুন তদন্তকারী দলের তরফে জমা দেওয়া তিন পাতার রিপোর্টে তদন্তের অগ্রগতি এবং এখনও পর্যন্ত খতিয়ে দেখা বিভিন্ন তথ্যের কথা জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আদালতে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, তদন্তকারীরা আর জি কর মামলার (RG Kar Case) বিভিন্ন নথি, সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং ফরেনসিক রিপোর্ট পরীক্ষা করেছেন।

আরও পড়ুন: রাজ্যে জি-রামজি প্রকল্পে ব্যয়ের গতি শ্লথ, ৮৫ শতাংশের বেশি পঞ্চায়েতে খরচ শূন্য

পাশাপাশি, যে শ্মশানে অভয়ার দেহ দাহ করা হয়েছিল, সেখানেও গিয়ে তদন্ত করেছে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই তদন্তে পাওয়া তথ্যও স্ট্যাটাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সিবিআইয়ের তরফে আরও জানানো হয়, অভয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে যে বিষয়গুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে তদন্তের কিছু অংশ এখনও বাকি রয়েছে। আদালতের প্রয়োজন হলে তদন্তে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি আলাদাভাবে জমা দেওয়া হতে পারে বলেও জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিন আদালতে মামলার কেস ডায়েরিও জমা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিবিআইয়ের রিপোর্টে ফের সন্তুষ্ট নয় অভয়ার পরিবার। আদালত চত্বরে তাঁর বাবা জানান, বর্তমান তদন্তকারী দল তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে এবং তদন্তের কাজও করছে। তবে তাতে তাঁরা এখনও খুশি নন। তাঁর কথায়, এই মামলার দিকে রাজ্য, দেশ তথা গোটা বিশ্বের মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের দাবি। এদিন আদালতে সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও সরব হন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে কারা যুক্ত, তা নিয়ে অনেক তথ্য সামনে এসেছে। অথচ যাঁদের তাঁরা মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করছেন, তাঁরা কেন এখনও তদন্তের আওতার বাইরে রয়েছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। দীর্ঘ সময় ধরে ‘তদন্ত চলছে’ বলা হলেও কার্যত অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের আইনজীবী আরও বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে কেস ডায়েরিতে কী উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের কেন তদন্তের আওতায় আনা হয়নি, সেটিও খতিয়ে দেখার আবেদন জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, মূল অভিযুক্তদের আড়াল করে তদন্তকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মামলায় ইতিমধ্যেই সঞ্জয় রায়-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হয়েছে। তবে পরিবারের আইনজীবীর দাবি, ঘটনার প্রকৃত ষড়যন্ত্র বা বৃহত্তর যোগসূত্রের দিকটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

এদিকে, মামলার তদন্তে ঘটনার দিন অভয়ার সঙ্গে থাকা চার চিকিৎসকের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে তাঁরা এবং অভয়া  চেস্ট বিভাগের বহির্বিভাগে রাতের দায়িত্বে ছিলেন। রাত সওয়া দশটা নাগাদ পাঁচজনের জন্য খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়। এরপর যে সেমিনার কক্ষ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখানেই ডায়াসের উপর বসে পাঁচজন একসঙ্গে খাবার খান এবং অলিম্পিকের খেলা দেখেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। পরে অভয়া ডায়াসের উপর থাকা গদিতে ঘুমিয়ে পড়েন। দুই চিকিৎসক স্টাডি রুমে বিশ্রাম নিতে যান, এক জন ইন্টার্ন অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন এবং আর এক চিকিৎসক জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনে চলে যান।  পরদিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ ওই চার চিকিৎসকের মধ্যে এক জন সেমিনার কক্ষে ফিরে এসে অভয়াকে সেখানে পড়ে থাকতে দেখেন বলে সিবিআইকে জানিয়েছেন। নতুন করে ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়ার পর ফের বাড়তে চলেছে তদন্তের গতি। মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ নভেম্বর।