মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা উদ্ধারে আজবকাণ্ড উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) লখনউয়ে নিগোহা এলাকায়। ক্রেতা যুবককে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে রক্ত শুষে ​​নেওয়া হয় বলে অভিযোগ দোকান মালিকের বিরুদ্ধে। লখনউয়ে (Lucknow) একটি বাড়ি থেকে পাঁচদিন পরে ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ (Police)। 

প্রায় এক বছর আগে 'জিরো ডাউন পেমেন্ট'-এর শর্তে নাভাল কুমার নামে ওই যুবক একটি মোবাইল দোকান (Mobile Shop) থেকে ২১৫০০ টাকা দামের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন কিনেছিলেন। ১২ মাসের জন্য তাঁর মাসিক কিস্তির পরিমাণ ২৭৯৯ টাকা ধার্য হয়। অভিযোগ, ফোনটি প্রায় এক মাস ব্যবহারের পরে তিনি আর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। এরপরই কোম্পানির প্রতিনিধিরা ফোনটি ফেরত নিয়ে যান।

নাভালের বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই মাসের ৮-৯ তারিখে কয়েকজন ব্যক্তি বকেয়া কিস্তির টাকা দাবি করে তাঁর কাছে আসেন এবং তাঁকে মোটরসাইকেলে করে লখনউ নিয়ে যায়। তিনি জানান, লখনউ পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর শরীর থেকে রক্ত ​​নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁরা আমাকে একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত ​​টেনে নেয়। এরপর তাঁরা আমাকে সরাসরি একটি বাড়িতে নিয়ে যান”। 

যুবকের কথায়, এরপর তাঁকে ২৬০০ টাকার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকাটি পাঠাতে বলেন এবং বাড়ি ফেরার জন্য অতিরিক্ত ২০০ টাকাও চেয়ে নেন। তবে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮০০ টাকার মতো পাঠানো হয়েছিল। ওই টাকা দেওয়ার পরেও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ যুবকের। তিনি দাবি করেন, সেই রাতেই ১০টা থেকে ১১টার দিকে তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয় এবং আরও ১২,৫০০ টাকার ব্যবস্থা করতে বলা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বর তারা কুমারের পরিবারের কাছ থেকে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পায়। কয়েকজন ব্যক্তি ওই পরিবারে এসে তাংকে একটি মোবাইল দোকানে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে সদর এলাকায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়, মারধর করা হয় এবং তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়। তদন্তে নেমে পাঁচদিন পরে লখনউয়ে একটি বাড়ি থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে দল গঠন করেছে পুলিশ।