দেব সবসময়ই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের ইমেজ ধরে রাখতে চান। তিনি এই শিবির বদলের খেলায় ঠিক কোন দিকে রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতিতেই তাঁর বাড়ির গণেশপুজোয় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দেবের রাজনৈতিক সৌজন্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানালেন এই কারণেই এবারের গণেশপুজোয় এসেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ‘My Heart Will Go On’; স্নায়ুরোগকে হারিয়ে সেলিনের ‘অলৌকিক’ প্রত্যাবর্তন
প্রতি বছরের মতো এবারও অভিনেতা দেবের দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে মহাসমারোহে গণেশপুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন সুকান্ত মজুমদার। দেব নিজে উত্তরীয় পরিয়ে সুকান্তবাবুকে স্বাগত জানান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে খোশমেজাজে আড্ডা ও রাজনৈতিক খবরাখবরের বাইরে গিয়ে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় হতে দেখা যায়। বিঘ্নহর্তার মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে দুজনে একসঙ্গে ছবিও তোলেন।
আরও পড়ুন: ৮ বছর পর একই মঞ্চে মা-মেয়ে! সানা-ডোনার নাচের ছন্দে মুগ্ধ ‘মহারাজ’
দেবের বাড়িতে এই আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে সুকান্তকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক গন্ধ কেউ খোঁজার চেষ্টা করবেন না। দেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু পুরনো। এমনকি ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের সময় যখন নিজের প্রচারের জন্যই আমার কেন্দ্রে ও গেছিল তখনও আমাদের দ’জনের যে ভালো সম্পর্ক সেটা ও মঞ্চ থেকেই স্বীকার করেছিল। শুধু তাই নয় ভাষণ দিতে দিতেই তিনি বলেন যে ভালো ব্যক্তি সে জিতবে। তাঁর এই উদার মানসিকতা আমার ভালো লেগেছিল। বন্ধু বা দাদা যাই বলুন ওঁর আমন্ত্রণে এসেছি। এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক গন্ধ খুঁজবেন না।

আরও পড়ুন: কোন শহরে কত দাম পেট্রোল ডিজেলের
লোকসভা নির্বাচন বা সংসদের অধিবেশনে একে অপরের দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেও, উৎসবের আঙিনায় এই অম্লমধুর সমীকরণ নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার রাজনীতিতে দলগত বিরোধিতা যতই তীব্র হোক না কেন, ব্যক্তিগত স্তরে এবং উৎসব-পার্বণে এই ধরণের সৌজন্যের পরিবেশ সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিরই পরিচয় দেয়।

দেব বরাবরই তাঁর অরাজনৈতিক ও মার্জিত আচরণের জন্য পরিচিত। এর আগেও মিঠুন বা অন্যান্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেব। অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারও এই আমন্ত্রণ রক্ষা করে সেই সৌজন্যের ধারাকেই বজায় রাখলেন। পুজো মণ্ডপ থেকে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি নেতা জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি সামাজিক ও সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ, এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক রং খোঁজা উচিত নয়। দেব যে তাঁর এই চিরপরিচিত স্বভাবের জন্য বিরোধী পরিমণ্ডলের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্য তা বলাই বাহুল্য।
















