প্রেসক্রিপশনের প্যাডে নামের পাশে লেখা একাধিক বড় ডিগ্রি। রোগী দেখার জন্য নিতেন ৮০০ টাকা। শুধু একটি চেম্বার নয়, সোনারপুরের ( Sonarpur) ঘাসিয়াড়া এলাকায় গত কয়েক বছরে একে একে আটটি চেম্বার খুলে বসেছিলেন ওই ব্যক্তি। এরপর ভুয়ো চিকিৎসকের ( Fake Doctor)সন্দেহ হতেই রোগী সেজে তাঁর চেম্বারে তল্লাশি চালায় সোনারপুর থানার পুলিশ ( Sonarpur Police Station)। আর তাতেই গ্রেফতার হলেন বিশ্বরূপ আচার্য। 

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে একা ঘুরতে গিয়েই বিপদ! মুজাহিদিনের  হাতে ধৃত কেরলমের  মহিলা ভ্লগার

পুলিশ সূত্রে খবর, বিশ্বরূপ নিজেকে অঙ্কোলজিস্ট অর্থাৎ ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন। তাঁর প্রেসক্রিপশন প্যাডে এফআরসিএস-এর মতো বিদেশি ডিগ্রির উল্লেখ ছিল বলে খবর। সেইসঙ্গে ঘাসিয়াড়া এলাকায় ধীরে ধীরে নিজের ‘চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিতি তৈরি করে ফেলেছিলেন তিনি। বিভিন্ন চেম্বারে রোগী দেখিয়ে নিয়মিত উপার্জন করতেন বলেও পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।


সম্প্রতি ঘাসিয়াড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন করে চেম্বার খোলেন বিশ্বরূপ। তখন বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথাবার্তার সময় তাঁর যোগ্যতা ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সোনারপুর থানায় অভিযোগ জানান ওই বাড়ির মালিক। তাঁর সন্দেহ ছিল, যিনি চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় রোগী দেখছেন, আদৌ তাঁর চিকিৎসা করার যোগ্যতা রয়েছে কি না।


অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্বরূপের পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে খোঁজ শুরু করে পুলিশ। এরপরেই সোমবার রাতে তাঁর চেম্বারে পৌঁছন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের পরিচয়ে নয়, রোগীর ছদ্মবেশে। কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান এবং পরিচয় যাচাই করার চেষ্টা করেন তাঁরা। পুলিশের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বরূপের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে তাঁর নথিপত্র ও প্রেসক্রিপশন প্যাড খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি আদৌ চিকিৎসক নন। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

বিশ্বরূপ চিকিৎসক না হয়েও কীভাবে এতদিন ধরে তিনি প্রকাশ্যে রোগী দেখলেন। তাঁর হাতে থাকা ভুয়ো ডিগ্রিগুলি কোথা থেকে এল, কে বা কারা তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেছে, কিংবা এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না সেই সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিশ্বরূপকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে খবর। 
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে  ধরা পড়লেন একাধিক ভুয়ো চিকিৎসক। পূর্ব বর্ধমানের তালিতে শেখ সায়দুল হক নামে এক ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়েন। উত্তর ২৪ পরগনাতেও জুলফিকার মণ্ডল নামে অন্য এক ভুয়ো ডাক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মেলেছিল একাধিক ভুয়ো ডাক্তারির সার্টিফিকেট। আর এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল সোনারপুরে।