সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজকে ঘিরে পড়ুয়াদের একাংশের বিস্ফোরক অভিযোগের পর এবার কার্যত পাল্টা জবাব দিলেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুম। ‘কম্প্রোমাইজ’-এর চাপ, ব্ল্যাকমেলিং কিংবা কুপ্রস্তাব দেওয়ার মতো কোনও ঘটনার কথা তাঁর কাছে কখনও জানানো হয়নি বলেই দাবি তাঁর। ফলে তাঁকে ঘিরে যে অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কলেজ প্রশাসনের কাছে এমন কোনও অভিযোগ এলে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হত।
ফি সংক্রান্ত বিতর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ভাইস প্রিন্সিপাল। তাঁর দাবি, সরকারি অন্যান্য কলেজের তুলনায় সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে ফি সামান্য বেশি হলেও তার পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কলেজের আর্থিক লেনদেনে কোনও অস্বচ্ছতা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সমস্ত পেমেন্ট অনলাইন এবং ডাইরেক্ট পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়। পড়ুয়াদের দেওয়া অতিরিক্ত পরিষেবা এবং সেই সংক্রান্ত খরচের তথ্যও কলেজের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা রয়েছে। ফলে ফি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা সম্ভব বলেই জানিয়েছেন তিনি।
তবে পুরো বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর ‘পদত্যাগ’ নিয়ে প্রশ্ন। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের দাবি ছিল, ভাইস প্রিন্সিপাল স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্রে সই করেছেন। কিন্তু সেই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি তখন এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসার জন্য তাঁকে পদত্যাগপত্রে বাধ্য হয়ে সই করতে হয়েছিল। অর্থাৎ, ওই সইকে নিজের স্বেচ্ছায় দেওয়া পদত্যাগ হিসেবে মানতে নারাজ তিনি।
এখানেই নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করে দিয়েছেন ভাইস প্রিন্সিপাল। তাঁর দাবি, তিনি পদত্যাগ করেননি এবং এখনও সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল পদেই বহাল রয়েছেন। ফলে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর দাবির সরাসরি বিরোধিতা তৈরি হয়েছে।
















