ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণার অন্যতম প্রধান ভরকেন্দ্র হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই শিল্পে গতি আনার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে বেশ কিছু প্রকল্পের ছাড়পত্রও পাওয়া গিয়েছে। এবার DRDO (Defence Research and Development Organisation)-কে আরও একটি ছাড়পত্র দিল রাজ্য সরকার৷ পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে তৈরি হবে ক্ষেপনাস্ত্র ও মিসাইল পরীক্ষাকেন্দ্র ৷ পুরো কাজটির দায়িত্বে থাকবে DRDO৷ বর্তমানে ওড়িশার চাঁদিপুরে একটি ক্ষেপনাস্ত্র ও মিসাইল পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে ৷ জুনপুটের কেন্দ্রটি তৈরি হলে পূর্ব ভারতেই দুটি কেন্দ্র চালু থাকবে৷ 

আরও পড়ুন: সুশান্তের ম্যানেজার দিশার মৃত্যুরহস্যতে নয়া মোড়: CBI-র FIR-এ উদ্ধব-আদিত্যর নাম!

প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী জুনপুটে DRDO ক্ষেপনাস্ত্র ও মিসাইল পরীক্ষাকেন্দ্র হলে বাংলার বেশ কিছু লাভ হবে। এই জাতীয় স্তরের প্রকল্পের হাত ধরে ভারতের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে বলেও তাঁরা মনে করছেন। 

DRDO-র এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি গড়ে উঠলে বাংলার ঠিক কী কী লাভ হবে? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক-

১) DRDO-র মতো একটি শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় সংস্থার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কয়েকশো কোটি টাকার জাতীয় বিনিয়োগ আসবে রাজ্যে। জুনপুটের মতো তুলনামূলকভাবে কম চর্চিত একটি উপকূলীয় অঞ্চল এই প্রকল্পের হাত ধরে সরাসরি ভারতের মূল অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মানচিত্রে যুক্ত হবে। ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং রিয়েল এস্টেট শিল্পে জোয়ার আসবে।

২) এই মেগা প্রজেক্টের নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে তা সম্পূর্ণ চালু হওয়া পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, ল্যাব টেকনিশিয়ান, নিরাপত্তা কর্মী এবং প্রশাসনিক পদে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীরা কাজের সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন: এক চুমুকেই বাজিমাত! এই ‘ককটেল’ পানে উদ্বেগ থাকবে দূরে, মন হবে ফুরফুরে

৩) কেন্দ্রের কর্মী ও বিজ্ঞানীদের দৈনন্দিন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে হোটেল, আবাসন, পরিবহন, খাদ্য সরবরাহ এবং অন্যান্য খুচরো ব্যবসার বাজারে স্থানীয় যুবকদের বিপুল কর্মসংস্থান হবে। 

৪) একটি হাই-টেক মিসাইল টেস্টিং রেঞ্জ পরিচালনা করার জন্য উন্নত রাস্তাঘাট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ, উচ্চ গতির ইন্টারনেট এবং উন্নত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই প্রকল্পের প্রয়োজনে জুনপুট ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল আধুনিকীকরণ করা হবে, যার সরাসরি সুফল পাবেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

৫) বাংলার মেধা সারা বিশ্বে সমাদৃত। রাজ্যে DRDO-র উপস্থিতি কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, শিবপুর আইআইইএসটি (IIEST) এবং খড়গপুর আইআইটি (IIT Kharagpur)-র মতো প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষক ও ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য প্রতিরক্ষা গবেষণার নতুন সুযোগ এনে দেবে। 

আরও পড়ুন: রুদ্রনীলের চক্রান্তের বেলুন ফাঁস! স্বরূপের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির ‘মিথ্যে’ অভিযোগ

৬) প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য বাংলার ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তিগত স্টার্ট-আপগুলি বড় বড় কাজের অর্ডার পাবে।

৭) দীঘা ও মন্দারমণির খুব কাছেই অবস্থিত জুনপুট। দেশের প্রথম সারির বিজ্ঞানী, সামরিক আধিকারিক এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের নিয়মিত যাতায়াত থাকবে এই কেন্দ্রে। এর ফলে এই অঞ্চলে হসপিটালিটি সেক্টর বা হোটেল ও পর্যটন শিল্পের পরোক্ষ বিকাশ ঘটবে।

৮) বর্তমানে ওড়িশার চান্দিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জের (ITR) ওপর পরীক্ষার যে বিপুল চাপ রয়েছে, জুনপুটের কেন্দ্রটি চালু হলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা ঢাল মজবুত করার ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই জুনপুট কেন্দ্র। আর এর অংশীদার হিসেবে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক ইতিহাসে চিরকালের জন্য জুড়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গের নাম।

আরও পড়ুন: কার প্রতিভাকে ভয় ছিল মহানায়কের? ‘চির-তরুণ’ বই প্রকাশে অকপট ঝিমলি

প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে জুনপুটের এই প্রতিরক্ষা কেন্দ্র আলোর মুখ দেখায় আশার আলো দেখছেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। পরিবেশ রক্ষা ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার ওপর যাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকে নজর রেখেই এই কাজ এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, জুনপুটে DRDO-র আগমন বাংলার বুকে এক নতুন শিল্প ও প্রযুক্তির বিপ্লব আনতে চলেছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের সার্বিক প্রবৃদ্ধিতে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।