স্কুলপড়ুয়াদের মিড-ডে মিল সরবরাহ নিয়ে রাজ্য সরকারের একের পর এক পদক্ষেপে তৈরি হল চূড়ান্ত প্রহসন। দায়িত্ব দেওয়ার মাত্র দেড় মাসের মাথাতেই রাজ্যের চার জেলায় মিড-ডে মিল সরবরাহের ভূমিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’কে। গত ২১ অগাস্ট সংস্থাটিকে খাবার সরবরাহের যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের সরকারি নির্দেশিকায় তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। ফলে নতুন ব্যবস্থাপনা ভেস্তে গিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে ফের বহাল হতে চলেছে পুরোনো ব্যবস্থাই।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিলের রান্না করা খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এই সংস্থাকে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার মাঝপথেই হঠাৎ নির্দেশ বদল করল শিক্ষা দফতর। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে ইতিমধ্যেই সেই প্রত্যাহারের নির্দেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, আপাতত পুরোনো পদ্ধতি মেনেই বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের বন্দোবস্ত চালু রাখতে হবে।
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলার একাধিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল সরকার। সেই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবেই ধাপে ধাপে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে রান্না করা খাবার সরবরাহের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাব, নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে খাবার পৌঁছনোর ক্ষেত্রে চরম সমন্বয়হীনতা এবং খাবারের তালিকায় নিরামিষ পদ থাকা নিয়ে দফায় দফায় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঝপথে ফের পড়ুয়াদের পাতে ডিম ফেরাতেও বাধ্য হয় প্রশাসন।
কলকাতার মডেলের সেই ত্রুটিপূর্ণ অভিজ্ঞতার পরেও জেলাস্তরে তা সম্প্রসারণের তোড়জোড় শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে তড়িঘড়ি অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনের হাতে চার জেলার একাংশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব রূপায়ণের মুখ দেখার আগেই দেড় মাসের মধ্যে সেই নির্দেশিকা বাতিল করে দেওয়ায় সরকারের পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা হল, শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় তার কোনো স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। প্রশাসনিক অদক্ষতা, খাবার বিতরণে জটিলতা নাকি অন্য কোনো অচলাবস্থার জেরে এই ইউ-টার্ন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। তবে বারবার এমন নীতি পরিবর্তনের জেরে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিল পরিষেবা নিয়ে বিভ্রান্তি ও অব্যবস্থা চরমে পৌঁছেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
















