রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই শিক্ষাঙ্গনে বদলে গিয়েছে চেহারা। বারবার এবিভিপির সঙ্গে বাম সংগঠনগুলির সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর আর আতঙ্কের ছবি আসছে সামনে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মেদিনীপুর কলেজের পর একই ছবি দেখা গেল ভাঙড় কলেজে ( Bhangar College)। সোমবার আইএসএফ ( ISF) এবং এবিভিপি ( ABVP) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। তাতেই দু’পক্ষ মিলিয়ে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ঘটনার জেরে কলেজ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভাঙড় থানার ( Bhangar Police Station) পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে।
আরও পড়ুন: ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানকে সামনে রেখে হিন্দির প্রসারে বাঙালি নেতাজির ভূমিকা স্মরণ শাহর
ঘটনার সূত্রপাত কলেজের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে। এবিভিপির অভিযোগ, আগামী দিনে কলেজে কর্মসূচি কী হবে তা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপিকার সঙ্গে আলোচনা করতে তাদের সমর্থকরা কলেজে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে আইএসএফ সমর্থকদের বচসা শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। তাদের আরও অভিযোগ, বাইরে থেকে লোকজন এনে তাঁদের সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। সংঘর্ষে ছাত্রদের পাশাপাশি কয়েকজন ছাত্রীও আক্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির। যদিও এবিভিপির এই অভিযোগ মানতে নারাজ আইএসএফ। তাদের দাবি, কলেজের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই বাইরে থেকে বিজেপি ( BJP) সমর্থকদের নিয়ে এসেছিল এবিভিপি। বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানানো থেকেই প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ বাধে বলে দাবি আইএসএফের। তাদের বক্তব্য, অশান্তির জন্য এবিভিপিই দায়ী। দু’পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত কলেজে যায় ভাঙড় থানার পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আহতদের নলমুড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে আইএসএফ এবং এবিভিপি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এর আগে একই ছবি দেখা গিয়েছিল যাদবপুরে। গত ১৯ অগাস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও ( Jadavpur University) ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেখানেও এবিভিপির সঙ্গে এসএফআই ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সমর্থকদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। জিবি বৈঠক ডাকা এবং নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকা অবস্থায় সেই বৈঠকের আয়োজন নিয়ে আপত্তি থেকেই বিবাদের সূত্রপাত বলে জানিয়েছিল এবিভিপি।
পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ ছিল, এবিভিপিই হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একই ছবি দেখা গেছিল মেদিনীপুর কলেজে। একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলির পড়ুয়াদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবিভিপির সদস্যরা। আর এবার এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল ভাঙড় কলেজে। একই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে কলেজের নিরাপত্তা এবং ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ নিয়ে। এদিনের ঘটনায় আপাতত দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তের পরই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হবে।
















