বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj) নেতাজিকে (Netaji) নিয়ে একাধিকবার কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। 'দেশদ্রোহী', 'জার্মানির দালাল' এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে চলেছে অপমান। তা সত্ত্বেও দলের সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপই নেয়নি বিজেপি (BJP)। বন্দে মাতরম (Vande Mataram) নিয়ে আগে থেকেই 'বঙ্কিম-প্রেম' জাগে বিজেপির। তবে এবার গেরুয়া শিবিরের মুখে ঘুরছে নেতাজির (Netaji) শব্দবন্ধ, 'জয় হিন্দ'। আর এই জয় হিন্দকে ব্যবহার করেই বাঙালির 'নেতাজি-ক্ষত'-তে মলম লাগাতে উদ্যত হয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। হিন্দি ভাষা দিবসে সেই ‘জয় হিন্দ’-এর সূত্র ধরেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ টানলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)।
আরও পড়ুন: ফ্রিজে স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু, গ্রেফতারির পর পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু অভিযুক্ত স্বামীর
বাঙালি হয়েও হিন্দি ভাষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন নেতাজি। বিদেশের মাটিতে আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে তোলার সময় হিন্দিকেই যোগাযোগের অন্যতম ভাষা করেছিলেন তিনি। তবে শাহের বক্তব্যের মূলে শুধুই হিন্দির প্রচার, ছিল এমনটা নয়। বরং তাঁর কথায়, কোনও ভাষাই অন্য ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। দেশের ভাষাগত বৈচিত্রই দেশের শক্তি। তাই মাতৃভাষাকে সবার আগে রেখে একাধিক ভারতীয় ভাষা শেখার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
হিন্দি দিবস উপলক্ষে ভারচুয়াল বক্তৃতায় শাহ বলেন, নিজের মাতৃভাষায় কথা বলার ক্ষেত্রে কারও হীনমন্যতায় ভোগা উচিত নয়। কারণ ভাষার সঙ্গে মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং শিকড়ের সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে। হিন্দির প্রসারে হিন্দিভাষী নন এমন ব্যক্তিত্বদের অবদানের উদাহরণ দিতে গিয়ে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী ও মহাত্মা গান্ধীর কথাও বলেন শাহ। তাঁর কথায়, গুজরাটি দয়ানন্দ সরস্বতী ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ হিন্দিতে লিখেছিলেন। অন্যদিকে ১৯১৮ সালে মাদ্রাজে হিন্দি প্রচার সভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
আরও পড়ুন: এক চুমুকেই বাজিমাত! এই ‘ককটেল’ পানে উদ্বেগ থাকবে দূরে, মন হবে ফুরফুরে
এরপরই আসে নেতাজির প্রসঙ্গ। অমিত শাহের কথায়, সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন বাঙালি। কিন্তু আজাদ হিন্দ ফৌজের মধ্যে যোগাযোগের ভাষা হিসেবে হিন্দির ব্যবহার করেছিলেন তিনি। ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানটিকেও দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব নেতাজির বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন নিজের উদাহরণও দেন শাহ। জানান, তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি হলেও দেশের যে প্রান্তেই যান, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিন্দিই তাঁর মাধ্যম হয়ে ওঠে। তাঁর কথায়, হিন্দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অর্থ অন্য ভাষাকে সরিয়ে দেওয়া নয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতার দাসত্ব’ থেকে মুক্তির আহ্বানের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, সেই মানসিক মুক্তির ক্ষেত্রেও ভাষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
















