কার্গিল যুদ্ধে দেশের হয়ে লড়েছিলেন। ‘অপারেশন সফেদ সাগর’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন ( IAF Officer) অমিত কুমার গুপ্ত ( Amit Kumar Gupta)। সেই প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিকই এবার গুরুগ্রামে ( Gurugram) মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। পরিবারের সঙ্গে রেস্তরাঁয় খেতে গিয়ে পার্কিং নিয়ে বচসার পর তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি অমিতের। মাথায় ও হাতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি। 

আরও পড়ুন: হাবড়া থানার পুলিশ ব্যারাকে SI-এর রহস্যমৃত্যু


ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৮ এলাকার এম৩এম ম্যাগনাম বিজনেস পার্কে। পরিবারকে রেস্তরাঁর সামনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি রাখার জায়গা খুঁজছিলেন অমিত। তাঁর অভিযোগ, একাধিক জায়গায় গাড়ি পার্ক করার চেষ্টা করলেও তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা এক কর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। অমিতের অভিযোগ, আচমকাই ওই কর্মী তাঁর গাড়ির কাচে ঘুষি মারতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলে তাঁকে লক্ষ্য করে লোহার রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। মাথায় একাধিক বার আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর হাতে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ। এরপর অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

 

হামলার জেরে অমিতের একাধিক চোট লাগে। তাঁর কনুই ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করে প্লেট বসানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাথাতেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। ঘটনার পর চিকিৎসাধীন থাকার কারণে রবিবার তিনি সেক্টর ৬৫ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেক্টর ৬৫ থানার আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রাথমিক তদন্তে অমিতের উপর হামলার বিষয়টি সামনে এসেছে। পার্কিং নিয়ে বিবাদের পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ঠিক কী কারণে হামলা হল এবং ঘটনার সময় কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

এই ঘটনার পাশাপাশি একই সময়ে গুরুগ্রামে আরও একটি ঘটনা শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রবিবার এক তরুণীর বাইকে একটি চারচাকার গাড়ি ইচ্ছাকৃত ভাবে ধাক্কা মেরেছে বলে অভিযোগ ওঠে। তরুণী বাইক থেকে ছিটকে পড়ে আহত হন। তাঁর দাবি, গাড়িটি আগে থেকেই তাঁকে অনুসরণ করছিল এবং বার বার বাইক থামাতে বলা হচ্ছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় গাড়ির চালক ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তরুণীকে বাইক থেকে ছিটকে পড়তে দেখা যায়। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। চালক মত্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তরুণী। পর পর এই ধরনের ঘটনায় গুরুগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।