গুয়াহাটির (Guwahati) একটি বাড়ি থেকে কয়েক দিন ধরেই আসছিল পচা গন্ধ। প্রতিবেশীদের সন্দেহ বাড়তেই খবর যায় পুলিশের কাছে। বাড়িতে ঢুকে যে দৃশ্যের মুখোমুখি হন তদন্তকারীরা, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর কাটা মুণ্ডু ফ্রিজে রেখে দিয়েছেন স্বামী। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে গ্রেফতারও হন তিনি। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ঘটল আর এক নাটকীয় ঘটনা। পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে খাদে পড়ে মৃত্যু হল সেই অভিযুক্তের।
আরও পড়ুন: কার্গিল-যোদ্ধার উপর হামলা, গুরুগ্রামে আক্রান্ত প্রাক্তন বায়ুসেনা ক্যাপ্টেন
ঘটনাটি অসমের (Assam) গুয়াহাটির। মৃত অভিযুক্তের নাম রামানুজ গোস্বামী (Ramanuj Goswami)। তাঁর স্ত্রী রিয়া তালুকদারের (Riya Talukdar) বয়স ছিল ২৫ বছর। পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই সন্দেহে ভুগছিলেন রামানুজ। রিয়ার সঙ্গে অন্য এক পুরুষের সম্পর্ক রয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ ছিল। ওই ব্যক্তিকে ‘সুগার ড্যাডি’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সন্দেহের বশে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে স্ত্রীকে খুন করেন রামানুজ।
এর পর কয়েক দিন কোনও সাড়াশব্দ মেলেনি দম্পতির। পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর মধ্যেই ৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও একই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজের ভিতর থেকে রিয়ার কাটা মুণ্ডু উদ্ধার করা হয়। পাওয়া যায় শরীরের কয়েকটি আঙুলের টুকরোও।
আরও পড়ুন: ফের দোলাচলে সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ, সোমেও এলেন না উপাধ্যক্ষ
সেই রাতেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। তাঁকে গ্রেফতার করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তের সময় তাঁর বাড়ি থেকে রক্তমাখা একটি ধারালো অস্ত্র এবং খালি মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটিই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, জেরায় রামানুজ জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে গ্রেফতারির পরেও স্ত্রীকে খুন করার ঘটনায় তাঁর মধ্যে বিশেষ অনুতাপ দেখা যায়নি। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁর আচরণে অনুশোচনার কোনও লক্ষণ ছিল না বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রের দাবি। জেল থেকে বেরোতে পারলে স্ত্রীর প্রেমিককেও খুন করার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।
এর মধ্যেই সোমবার ভোরে তাঁকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে নরকাসুর পাহাড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় তার তাঁর। আচমকাই চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেন রামানুজ। নীচের খাদে গিয়ে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবুও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্ত্রীকে সন্দেহের বশে খুন, দেহের অংশ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগের পর পুলিশের হেফাজত থেকে অভিযুক্তের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন । পুলিশের দাবি, পালানোর চেষ্টা করতেই চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন রামানুজ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
















