নোখার (Nokha) পুরভোটে বড়সড় চমক। রাজস্থানের (Rajasthan) নোখা নগর পালিকা পুরসভার নির্বাচনে বিজেপি-কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গড়ার পথে সিপিআই(এম)। ৪৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে বামেদের দখলে এসেছে ২৯টি। বিজেপি (BJP) থেমেছে ১৩-তে। বাকি তিনটি ওয়ার্ডে জিতেছেন নির্দল প্রার্থীরা।
আরও পড়ুন: ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানকে সামনে রেখে হিন্দির প্রসারে বাঙালি নেতাজির ভূমিকা স্মরণ শাহর
রাজস্থানের রাজনৈতিক সমীকরণ যেখানে বিজেপি ও কংগ্রেসকে ঘিরেই আবর্তিত হয়, নোখার ফল সেখানে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। স্থানীয় স্তরে সংগঠন মজবুত করে এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে রেখে আন্দোলন চালিয়ে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে সিপিআই(এম)।
আরও পড়ুন: বাংলার বুকে DRDO-র মেগা প্রকল্প! কতটা বদলে যাবে রাজ্যের শিল্প মানচিত্র?
দলের রাজ্য সম্পাদক কিষাণ পারিখের (Kishan Parikh) দাবি, নোখার মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, অর্থনীতি-সহ স্থানীয় নানা সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিয়েছেন। আর সেই জায়গাতেই বামেদের ধারাবাহিক আন্দোলন মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। পারিখের কথায়, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ নিয়েই দীর্ঘদিন মাঠে ছিল সিপিআই(এম)। তাই ভোটের সময় বামেদেরই বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখেছেন নোখার মানুষ। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ, অন্যদিকে কংগ্রেসের নিষ্ক্রিয়তা, এই দুইয়ের মাঝেই সুযোগ বুঝে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে বামেরা।
এই জয়কে শুধু একটি পুরসভার সাফল্য হিসেবে দেখতে নারাজ সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। পারিখের মতে, অর্থনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক আন্দোলন এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা, এই দুই ক্ষেত্রেই রাজস্থানে নিজেদের রাজনৈতিক পরিসর ফের বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে বামেরা।
প্রসঙ্গত, নোখার পাশাপাশি রাজ্যের অন্য পুর এলাকাতেও সিপিআই(এম)-এর ফল নজর কেড়েছে। এবারের পুরভোটে রাজস্থানজুড়ে ১৯২ জন প্রার্থী দিয়েছিল দল। সোমবারের ফলাফলে অন্তত ৪০ জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। দলের নেতৃত্বের কাছে এই সংখ্যাটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনও পুরসভায় একটি-দুটি ওয়ার্ড জেতাও ভবিষ্যতের সংগঠনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। সেই জায়গা থেকেই নোখার ২৯টি ওয়ার্ডের জয়কে রাজস্থানে রাজনৈতিক জমি পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে বাম নেতৃত্ব।
















