পুজোর আগেই এনসিপিআই থেকে বিজেপিতে যোগ দেবেন তৃণমূল থেকে যাওয়া ১৭ জন সাংসদ। কিন্তু বাদ সংখ্যালঘু সাংসদরা। সোমবার এই বিস্ফোরক দাবি করলেন সিতাইয়ের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া (Jagadish Chandra Basunia)। তবে, তাঁর এই দাবি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন তৃণমূলত্যাগী বাকি সাংসদরা। তাঁদের সবার এক সুর, “আমি বলতে পারব না।” আর বাসুনিয়ার এই মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ”ওটা মঙ্গলগ্রহের বিজেপি ইউনিট হতে পারে।”

বিজেপিতে যোগদানের বিষয়ে তৃণমূল ছেড়ে দলত্যাগী আইন থেকে বাঁচতে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়া বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, ”আমার সঙ্গে কারও এরকম কোনও কথা হয়নি। এরকম খবর আমি জানি না। যিনি বলেছেন এর ব্যাখ্যা তাঁকেই দিতে হবে। কে তাঁকে বলেছেন, কীসের ভিত্তিতে বললেন৷ হয়তো তিনি নিজে যোগ দিচ্ছেন৷ আমি বলতে পারব না।” বসুনিয়া আরও দাবি করেছিলেন, বিজেপি-র নির্দেশ মতোই দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে শতাব্দী বলেন, ” এই সব প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া কঠিন৷ আমি এই কথাগুলো বললে জবাব বা ব্যাখ্যা দিতে পারতাম।” ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সোরেন আবর সব বল ঠেলে দেন ‘বড়দের’ দিকে। বলেন, ”এখন আমার নিজস্ব মতামত কিছু নেই৷ ওনারা যা করবেন তাই করতে হবে৷ ওনারা বিজেপি-তে গেলে আমাকেও যেতে হবে৷” একই সুরে আরমাবাগের সাংসদ মিতালি বাগ বলেন, ”সুদীপদা বা আমাদের উপরে যাঁরা আছেন তাঁরাই বলতে পারবেন বিষয়টা।”

আর েই বিষয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, ”ওটা মঙ্গলগ্রহের বিজেপি ইউনিট হতে পারে।” বিজেপির উপর তৃণমূল জমানায় অত্যাচারের অভিযোগ তুলে শমীক বলেন, ” ২০২১ সালের ফল বেরনোর পর ২৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন, ২০০ বিজেপির মহিলা কর্মী গণধর্ষিতা, জেসিবি দিয়ে বাড়ি ভাঙা, থুতু ফেলে চাটানো, মাথা কামিয়ে দেওয়া, জরিমানা নিয়ে বাড়ি ফেরানো, অটো টোটো স্ট্যান্ড থেকে ছেলেদের বার করে দেওয়া, এগুলো বিজেপি ভুলে যায়নি। সুতরাং বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই সমস্ত পাপ মুছে যাবে বলে করার কারণ নেই।” দেবজিৎ সরকার বলেন, ”আমরা এমন করি না, যা বলেছেন তার দায় ওঁর”। দলবদলুদের কটাক্ষ করে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "আমরা তো বারবার বলছি দিল্লিতে ধোপার বাড়িতে যাওয়া ওই কুড়িজন বিজেপির দালালি করতে গেছে। তারা তো নিজেরাই জানেন না আজ তারা কোথায় দাঁড়িয়ে। বিজেপির নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তারা জিতলেন বিজেপি বিরোধী ভোট নিয়ে। তারপর গিয়ে তারা বিজেপির দালালি করছেন। এই বিষয়টি যেহেতু বিবেচনাধীন আছে আদালতে তাই এই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করব না এ বিষয়টি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি দেখছেন। কিন্তু নীতি হীনতার বিষয়টা যে এরা দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে যাচ্ছেন। এটা কোন নীতি? রাজনীতিকে আর কত ঘৃণ্য নোংরা জায়গায় এরা নামাবেন? ২০ জন যারা দিল্লিতে ধোপার বাড়িতে গেছেন তারা তো নাম বাবার নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলেও এখন আদালত থেকে সময় চেয়ে আনবেন যে আমার নাম কি সেটা আমার বলতে সময় লাগবে। আজকে যেখানে দাঁড়িয়ে কাল সেখানে দাঁড়িয়ে নয় কাল যেখানে দাঁড়িয়ে পরশু সেখানে দাঁড়িয়ে নয়। এরপর বলছেন আমরা বিজেপিতে যাব লজ্জা করছে না বলতে?  বিজেপির বিরোধী মানুষজন এদেরকে ভোট দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী বলে। আজকে মানুষের সঙ্গে বেইমানি করে বলছে বিজেপিতে যাব। এটা শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয়, এটা বিজেপি বিরোধী যারা এনাদের ভোট দিয়েছে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। এরা গদ্দার, এরা বেইমান, এরা বিজেপির দালাল। এরা দিল্লিতে সুবিধাবাদী রং বদল দল বদলের গিরগিটির রাজনীতি করতে গেছে। এরা দিশাহীন।"