দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন জীবদ্দশায় কিন্তু মৃত্যুর পরও তাঁর অঙ্গদান বাঁচিয়ে দিল সাতটি প্রাণ। কেরলের ( Kerala) বাসিন্দা এবং ভারতীয় সেনার ( Indian Army) জওয়ান রাহুল রাজীবের অঙ্গদানের এই ঘটনা মানবিকতার এক অনন্য নজির হয়ে রইল। ৩০ বছরের রাহুল কর্মজীবনেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তাঁর নাম নথিভুক্ত ছিল কেরল স্টেট অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন (K-SOTTO)-এ। তিরুবনন্তপুরমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা রাহুলের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া K-SOTTO-র সমন্বয়ে শুরু হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে দ্রুত অঙ্গ পৌঁছে দিতে কেরল পুলিশের সহযোগিতায় তৈরি করা হয় গ্রিন করিডর। তিরুবনন্তপুরম ও তিরুভল্লার মধ্যে এই বিশেষ পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয় রাহুলের দান করা অঙ্গ ও টিস্যু।
আরও পড়ুন: কার্গিল-যোদ্ধার উপর হামলা, গুরুগ্রামে আক্রান্ত প্রাক্তন বায়ুসেনা ক্যাপ্টেন
রাহুলের লিভার প্রতিস্থাপন করা হয় KIMS হাসপাতালের এক রোগীর শরীরে। তাঁর দুটি কিডনির একটি যায় পুষ্পগিরি মেডিক্যাল কলেজে এবং অন্যটি তিরুবনন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজে। হার্ট ভালভ পাঠানো হয় শ্রী চিত্র তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে। এছাড়াও তাঁর দান করা চামড়ার টিস্যু ব্যবহার করা হয়েছে তিরুবনন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং কর্নিয়া দেওয়া হয়েছে তিরুবনন্তপুরমের একটি চোখের হাসপাতালে। রাহুলের এই অঙ্গদানের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ( Kerala CM) ভি ডি সাথিসান (V.D. Satheesan)। একইসঙ্গে অঙ্গগুলি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কেরল পুলিশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
একজন সৈনিক হিসেবে জীবদ্দশায় দেশের সেবা করেছেন রাহুল। আর মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদান সেই সেবাকেই যেন আরও বিস্তৃত করে দিল—একসঙ্গে সাতটি মানুষের জীবনে ফিরিয়ে দিল বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ।
















