নির্বাচনে ( Election) জয়ী হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বাড়ছে দলবদলের প্রবণতা। বিশেষ করে সরকার বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সঙ্গে সঙ্গে সাংসদ-বিধায়কদের এক দল থেকে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন।  অনৈতিকভাবে দলবদলুদের শায়েস্তা করতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের দাবি জানালেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল ( Kapil Sibal) । তাঁর মতে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দলবদলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধি প্রয়োজন। অর্থাৎ, যাতে যে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে  সাংসদ-বিধায়ক হয়েছেন তারা যেন মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ওই দলেই থাকেন। 

আরও পড়ুন: পুরসভা ভোটে দাঁড়ালেও জেতানো কঠিন! সুদীপকে খোঁচা দিয়েও দলের আনুগত্য মেনে প্রচারে রাজি তাপস

কেরলে ( Kerala) অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়নের রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিব্বল প্রস্তাব দেন, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক কার্যকাল শেষ হওয়ার আগে দল পরিবর্তন করলে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। শুধু পদ হারানো নয়, পরবর্তী পাঁচ থেকে দশ বছর যাতে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন, সেই ব্যবস্থার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। দলবদল রুখতে সংবিধানের দশম তফসিলে থাকা বিধির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। বর্তমান আইনে কোনও রাজনৈতিক দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ নির্বাচিত সদস্য অন্য দলে যোগ দিলে তা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না। সিব্বলের মতে, এই বিধির সুযোগ নিয়েই অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনের মতো শর্তের সুযোগে একটি নির্বাচনের ফলাফলও কার্যত বদলে যেতে পারে। তাতে ভোটারদের রায় এবং জনমতের গুরুত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে।

 

তাঁর মতে, ‘দল মিশে যাওয়া’র ক্ষেত্রে কয়েক জন সাংসদ বা বিধায়কের অন্য দলে যোগ দেওয়াকে একেবারেই দলীয় সংযুক্তিকরণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং দুটি রাজনৈতিক দলের সম্পূর্ণ সংযুক্তিকরণকেই একমাত্র বৈধ মাপকাঠি করা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিদের দলবদলের পিছনে অর্থ, মন্ত্রিত্ব, কোনও বিশেষ সুবিধা কিংবা তদন্ত থেকে রেহাইয়ের মতো প্রলোভন কাজ করলে সেগুলিকেও দুর্নীতির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনাকে নিছক ‘ঘোড়া কেনাবেচা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

 

গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলবদলকে কেন্দ্র করে একাধিকবার রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। কখনও দলবদলের জেরে সরকার পড়েছে, কখনও আবার ভেঙে টুকরো হয়েছে রাজনৈতিক দল। এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপরেও প্রভাব ফেলছে বলে মত সিব্বলের। তাঁর কথায়, কার্যকালের মাঝপথে জনপ্রতিনিধির দলবদল হলে ভোটারদের রায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্ব—দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্যপাল, স্পিকার এবং আদালতের ভূমিকা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

কপিল সিব্বলকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে মন্তব্য করেছেন, এটা সময়ের দাবি। অধ্যক্ষ এবং সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রবীণ আইনজীবী। তাঁর মতে, দলবদলের পরে বিধানসভার বা লোকসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কৌশলকে অনৈতিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পতন ঘটানো হচ্ছে অনেকক্ষেত্রে। সেই কারণেই স্পিকারদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত।