উত্তর ২৪ পরগনার ( North 24 Pargana) হাবড়া থানার (Habra Police Station) পুলিশ ব্যারাকে এক পুলিশ আধিকারিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হাবড়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর (SI) বিশ্বনাথ সেনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুলিশ ব্যারাকের মতো সংরক্ষিত এলাকায় এক কর্মরত পুলিশ ( Police) আধিকারিকের এইভাবে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, হাবড়া থানার পুলিশ ব্যারাক থেকেই বিশ্বনাথ সেনের ( Biswanath Sen) দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, ঘটনার আগে সেখানে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর পিছনে কোনও অন্য কারণ রয়েছে কিনা—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: রাহুলের সঙ্গে ছিল বিয়ের গুঞ্জন, বিজেপি ছেড়ে ‘হাত’ ধরছেন সাংসদ অদিতি
একজন পুলিশ আধিকারিকের কর্মস্থলের ব্যারাকে এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন ঘটনাস্থলের তথ্য, প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্তমূলক প্রমাণের বিশ্লেষণ। তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ব্যারাকের পরিস্থিতি, সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য, CCTV ফুটেজ থাকলে তার তথ্য এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। মৃত্যুর আগে SI বিশ্বনাথ সেনের গতিবিধি ও যোগাযোগ সম্পর্কেও তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে CID-এর হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে CID তদন্ত হলে ঘটনার প্রতিটি দিক আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে—এমনটাই দাবি উঠছে। বিশেষ করে পুলিশ ব্যারাকের ভিতরে একজন কর্মরত আধিকারিকের মৃত্যু হওয়ায় তদন্তে কোনও ধরনের পক্ষপাতের অভিযোগ যাতে না ওঠে, তার জন্য স্বাধীন ও পেশাদার তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।
বিশ্বনাথ সেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আপাতত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। ঠিক কখন এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়, মৃত্যুর আগে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কিনা, পুলিশ ব্যারাকে সেই সময় কারা উপস্থিত ছিলেন? ঘটনাস্থলে কোনও CCTV ফুটেজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে কিনা? ফরেনসিক পরীক্ষায় কী তথ্য উঠে আসে? তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। পরিবারের কাছে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়া যেমন জরুরি, তেমনই তদন্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থাও বজায় রাখা প্রয়োজন।
















