তৃণমূলের (TMC) টিকিটে জিতে লোকসভায় গিয়ে রাজ্যে পালাবদলের পরেই রং বদলেছেন। ভোটারদের সঙ্গে বেইমানি করে বাড়ি ফিরেই পড়েছে বিক্ষোভের মুখে। আর তার পরেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক বিস্পোরক দাবি করলেন সিতাইয়ের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া (Jagadish Chandra Basunia)। জানালেন, পুজোর আগেই এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ১৭ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেবেন। তবে, বাদ সংখ্যালঘু সাংসদরা। শুধু তাই নয়, তাঁদের এই দল বদলে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ সাহায্য করেছেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে তৃণমূলের প্রতীক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি নিয়ে জেতা ২০ জন সাংসদ শিবির বদল করেন। দলত্যাগী আইন থেকে বাঁচতে যোগ দেন অপরিচিত দল এনসিপিআই (NCPI)-তেয ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকারকে সমর্থন করার। আর পিছনে সরাসরি রয়েছে বিজেপি- দাবি বাসুনিয়ার। তিনি বলেন, “মাননীয় অমিত শাহের নেতৃত্বে আমরা ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। বিজেপিতে যোগ দিতে গিয়ে একটু সমস্যা হল। কারণ আমাদের সঙ্গে তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ ছিলেন। তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছিলেন না। তখন আমাদের দিল্লির নেতারা, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বাকি সবাই এনসিপিআই-এর সঙ্গে আমাদের মার্জ করিয়ে দেন।
তবে, সেই দলকে এখনও স্বীকৃতি দেননি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। এই পরিস্থিতিতে ২০ জন সাংসদের সাংসদ পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন ওই ২০ সাংসদের তালিকায় থাকা জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তাঁর মতে, "এখন ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন গেলেই দুই-তৃতীয়াংশ হয়, আর আমরা ১৭ জন একসঙ্গে যাচ্ছি। ফলে কোনও অবস্থাতেই আমাদের সদস্যপদ বাতিল হবে না বা আমরা দলবিরোধী আইনের আওতায় পড়ব না।"
কিন্তু ১৭ জন কেন? ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদ- আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান- এই তিনজন বাদ কেন? বসুনিয়ার বলেন, "ওঁদের সংসদীয় এলাকা সংখ্যালঘু প্রধান হওয়ায় সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই ওই ৩ জন সাংসদ সরাসরি দলবদল করবেন না, তবে তাঁরা এনডিএ (NDA)-র অংশ হিসেবেই কাজ করবেন এবং তাঁদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।"
একই সঙ্গে জগদীশ বলেন, “এনসিপিআই আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি (অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল)। রেজিস্টার্ড কিন্তু আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। স্পিকারের কাছেও তিনি আবেদন করেন। সেই প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো পুজোর আগেই শেষ হয়ে যাবে।”
















