বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন ঘিরে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে চলা আইনি লড়াইয়ের মাঝেই সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার আর শুধু বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে বিতর্ক নয়, দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর শিবিরের বিধায়কদের বিধায়ক পদই খারিজের আর্জি জানালেন মমতা শিবিরের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার শীর্ষ আদালতে এই মর্মে আবেদন দায়ের করা হয়েছে। যদিও মামলার শুনানির দিনক্ষণ এখনও জানায়নি সর্বোচ্চ আদালত।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আগেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়ক শোভনদেব। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মাঝেই সরাসরি শীর্ষ আদালতের দরজায় কড়া নেড়ে ঋতব্রতদের বিধানসভার সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে নতুন করে চাপ বাড়াল মমতাপন্থী শিবির।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়লাভ করে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায়। দলীয় চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার পদের জন্য শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম চূড়ান্ত করেন এবং গত ৯ মে সেই মর্মে বিধানসভার স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, তৃণমূলের সেই চিঠির ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ করেননি স্পিকার। পরিবর্তে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনকে হাতিয়ার করে গত ৩ জুন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ তার আগেই, গত ১ জুন ‘দলবিরোধী কাজের’ অভিযোগে ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।
বহিষ্কৃত একজন নেতাকে বিরোধী দলনেতা করার স্পিকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। তাঁর পক্ষে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জোরালো সওয়াল করে জানান, পরিষদীয় দল ও মূল রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণ পৃথক। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নজিরে স্পষ্ট বলা রয়েছে, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে মূল রাজনৈতিক দলের অবস্থানই চূড়ান্ত। ফলে কিছু বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে মূল দলের সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে পারেন না। তা ছাড়া দল থেকে বহিষ্কৃত কাউকে বিরোধী দলনেতা পদে বসানো আইনসম্মত নয় বলেই দাবি করেন তিনি।
তবে হাই কোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি। গত ১৮ অগাস্ট বিচারপতি শম্পা সরকারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চকে আগামী দু’মাসের মধ্যে মূল মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। ততদিন পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্তে আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। হাই কোর্টের বেঁধে দেওয়া সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এ বার রণকৌশল বদলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে দলত্যাগ বিরোধী আইনের অস্ত্র প্রয়োগ করল মমতাপন্থী নেতৃত্ব, যা ঘিরে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
















