ফের সিপিএমের ( CPIM) মিছিলে হামলা। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দলীয় কার্যালয়। জলপাইগুড়ির পর এবার একই ছবি দেখা গেল চন্দ্রকোনায়। সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে ( Chandrakona) সিপিএমের তরফে মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, সেই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এবং সুশান্ত ঘোষ-সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী।
সিপিএমের অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন বিজেপির ( BJP) তরফে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মিছিল ও সভা শেষ হওয়ার পরেই দলের স্থানীয় প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। চেয়ার-টেবিল, সাইকেল, বাইক-সহ একাধিক জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি পার্টি অফিসের কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সিপিএম। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সিপিএমের দাবি, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিজেপি। তারা প্রথমে মিছিল করতে বাঁধা দেয় তারপর পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লেনিন সরণীর নাম বদলের বিরোধিতা করবে তৃণমূল: সাফ জানালেন কুণাল
এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মিছিলে হামলার সঙ্গে বিজেপির লোকজনই যুক্ত ছিলেন এবং বিজেপির পতাকা নিয়েই হামলা চালানো হয়েছিল। পার্টি অফিসে আগুন লাগানোর প্রসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে শতরূপ বলেন, ‘‘এটা জেনেটিক্যাল সমস্যা, পলিটিক্যাল নয়।’’
পাশাপাশি তাঁর আরও কটাক্ষ, সিপিএমের পার্টি অফিসে আগুন না লাগিয়ে সিবিআই-ইডির দফতরে আগুন লাগালে শুভেন্দু অধিকারীর সারদা-নারদা সংক্রান্ত কিছু ফাইল পুড়ে যেত। যদিও সিপিএমের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও নেতা-কর্মী জড়িত নন। বরং সিপিএমের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে পাল্টা দাবি বিজেপির। উল্লেখ্য, এর আগেও জলপাইগুড়িতে সিপিআইএমের জেলা পার্টি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল সিপিএম। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছিল বিজেপি। আর এবার একই চিত্র ধরা পড়ল চন্দ্রকোনায়।
















