এক সময় গণেশ চতুর্থীর আড়ম্বর মূলত আটকে থাকত বাণিজ্যনগরী মুম্বই বা পশ্চিম ভারতে। কিন্তু সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই চেনা ছবি অনেকটাই বদলে গিয়েছে বাংলায়। ব্যান্ডেল-সহ হুগলির মফসসলে এখন ঘরে ঘরে নিষ্ঠাভরে শুরু হয়েছে সিদ্ধিদাতার আরাধনা। আর উৎসবের সেই জোয়ারে মফসসলের মিষ্টির বাজারেও লেগেছে জোরালো পরিবর্তনের ছোঁয়া। গণপতিকে নিবেদনের প্রধান উপকরণ লাড্ডু ও মোদকের বিপুল চাহিদায় গমগম করছে এলাকার মিষ্টির দোকানগুলি।

উৎসবের মরসুমে এ বার বিশেষ চমক দিয়েছে ব্যান্ডেল স্টেশন রোডের একটি সুপরিচিত মিষ্টির প্রতিষ্ঠান। দোকান সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার প্রায় এক হাজার কেজি লাড্ডু তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু পরিমাণেই নয়, আকারের বৈচিত্র্যেও নজর কেড়েছে তাদের মিষ্টি। গত বছর সেখানে সর্বোচ্চ দশ কেজির লাড্ডু তৈরি হয়েছিল। এ বার সেই রেকর্ড ছাপিয়ে তৈরি হয়েছে পেল্লাই আকারের পনেরো কেজির লাড্ডু। একই ভাবে মোদকের ক্ষেত্রেও এসেছে নতুনত্ব। গত বারের আধ কেজির মোদকের বদলে এ বার হাজির হয়েছে আস্ত দুই কেজির বিশালাকার মোদক।

ক্রেতাদের সাধ্যের কথা মাথায় রেখেই দামের বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। সাধারণ ভক্তদের জন্য লাড্ডুর দাম শুরু হচ্ছে মাত্র দশ টাকা থেকে, আর সুবিশাল আকারের লাড্ডুর সর্বোচ্চ দর পৌঁছেছে পাঁচ হাজার চারশো টাকায়। কাউন্টারে সরাসরি বিক্রির পাশাপাশি আগে থেকেই এমন দশ-বারোটি পেল্লায় লাড্ডুর বরাত জমা পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, ব্যান্ডেল কার্যত এক ‘মিনি ইন্ডিয়া’। বহু বছর ধরে নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে মিলেমিশে বাস করেন। ফলে সর্বভারতীয় এই উৎসবটি এখানে বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে। শুধু ব্যান্ডেলই নয়, চুঁচুড়া ও চন্দননগরের মতো পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও ক্রেতারা আসছেন পছন্দসই লাড্ডু ও মোদকের খোঁজে। চাহিদার এই তুঙ্গে থাকা বাজার দেখে স্পষ্ট, বাংলায় গণেশ পুজোর বিস্তারের সঙ্গে মিষ্টির অর্থনীতিতেও নতুন জোয়ার এসেছে।