চেম্বারে রোগীদের লম্বা লাইন। অথচ সে সবের তোয়াক্কা না করে চেয়ারে বসে একমনে মোবাইলে মগ্ন চিকিৎসক! এমনকি কর্তব্যরত অবস্থায় মোবাইলে তিনি গেম খেলায় ব্যস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ। চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের এই ধরনের একটি অস্বস্তিকর ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকা জুড়ে (ভিডিয়োর সত্যতা আনন্দবাজার যাচাই করেনি)। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের এমন উদাসীন আচরণ ঘিরে সাধারণ রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে তৈরি হয়েছে গভীর অসন্তোষ।

সামাজিক মাধ্যমে ওই ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যুব সমাজের একাংশ। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন কোনো বিষয় এখনও পর্যন্ত তাঁদের নজরে আসেনি। এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি বলেই জানানো হয়েছে।

মালদহের চাঁচল মহকুমার অন্তর্গত হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, রতুয়া-সহ মোট ছ’টি ব্লকের কয়েক লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রধান ভরসাকেন্দ্র এই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। কেবল স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, উন্নত চিকিৎসার আশায় পড়শি রাজ্য বিহার থেকেও বহু রোগী প্রত্যহ এই হাসপাতালে ভিড় জমান। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা করাতে আসা ক্ষুব্ধ পরিজনদের বক্তব্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে যেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ পেতে হয়রান হতে হয়, সেখানে চিকিৎসকদের এই ভূমিকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

ঘটনার ভিডিয়ো সামনে আসতেই স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রাজনৈতিক ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী দলগুলি। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে চাঁচল-১ ব্লকের কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কাজি আতাউর রহমান অভিযোগ তোলেন, বর্তমান শাসকদলের আমলে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনিয়ম ও চরম গাফিলতি নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্যে পালাবদল ঘটলেও প্রান্তিক মানুষের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যে কোনো বাস্তব উন্নতি হয়নি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। গোটা ঘটনার দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তিনি।