টানাপোড়েনের অবসান। ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার ( Bagbazar) সর্বজনীন দুর্গাপুজোর পরিচালন কমিটি ( Bagbazar  Pujo Committee) গঠন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় ইতি পড়ল কলকাতা হাই কোর্টের ( Calcutta High Court) রায়ে। বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে পদ্ধতিতে পুজো কমিটির নতুন পরিচালন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা সঠিক। ফলে এ বিষয়ে নিম্ন আদালতের নির্দেশই বহাল রইল। আবেদনকারী ক্লাব সদস্য রবিশঙ্কর সেনগুপ্তের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ খুনে ২ কোটি টাকা সুপারি! বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

বাগবাজার পুজো কমিটি এবং ক্লাব পরিচালনার জন্য ১৪ সদস্যের একটি পরিচালন কমিটি গঠনের কথা ছিল। সেই নির্বাচন ঘিরেই তৈরি হয় জটিলতা। ৩০ অগস্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দেন। ভোট ( Vote)  গণনার পর দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক পদে দুই প্রার্থীর ভোটসংখ্যা সমান। দু’জনেই পান ৩৩টি করে ভোট। সেইসঙ্গে দুই প্রার্থীই একই পরিবারের সদস্য দুই ভাই গৌতম ও ভাস্কর নিয়োগী। ফলে কে সাধারণ সম্পাদক হবেন, তা নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

শুধু সাধারণ সম্পাদক পদেই নয়, ১২ জন কার্যকরী সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। চারজন প্রার্থী ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও সমতা তৈরি হয়। যদিও কোষাধ্যক্ষ পদে কোনও জটিলতা তৈরি হয়নি এবং ওই পদে প্রার্থী নির্বাচিত হন। সমস্যা মেটাতে আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন এক পক্ষের তরফে সভাপতি ভোট দিয়ে সমতা ভাঙার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য পক্ষ সেই পদ্ধতিতে আপত্তি জানায়। এরপরেই নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয় এক পক্ষ। নিম্ন আদালত নির্দেশ দেয় যে কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করতে হবে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে।  নিম্ন আদালতে সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানায় ক্লাব সদস্য রবিশঙ্কর সেনগুপ্ত। তাঁর অভিযোগ ছিল, আদালতের নির্দেশ মেনে যে ভাবে ভোটের মাধ্যমে সমতা ভাঙা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়া সঠিক নয়। পাশাপাশি দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়। ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ঘিরে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগও সামনে আসে। ১০ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি শেষ হলেও রায়দান স্থগিত রেখেছিল হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য রায় ঘোষণা করে জানিয়ে দেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি নেই। ফলে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল এবং বাগবাজার পুজো কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হল।

উল্লেখ্য, বাগবাজারের এই দুর্গাপুজোর ইতিহাস একশো বছরেরও বেশি পুরনো। ১৯১৯ সালে ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে ‘নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা’ নামে পুজোর ( Durga Pujo) সূচনা। পরবর্তী সময়ে পশুপতি বোস লেন এবং বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পুজো অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাগবাজারেই স্থায়ীভাবে পুজোর আয়োজন শুরু হয় এবং তৈরি হয় বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।  ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিটির সভাপতি হন। ১৯৩২ সালে সোসাইটি আইনের অধীনে নথিভুক্ত হয় এই পুজো। এর আগে ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬ এবং ২০১০ সালে কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছিল জটিলতা। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপেই সেই জটের সমাধান হল।