ভুয়ো ডাক্তারির নথি (Fake Doctor) দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (Registration) নেওয়ার অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল (West Bengal Medical Council)। তাদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করার জন্য বিধাননগর দক্ষিণ থানায় সুপারিশ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শালবনি মামলার তদন্তে কালীঘাটে সিআইডি, সুমিতকে নিয়ে ফ্ল্যাটে তল্লাশি

অভিযোগ, বিহারের বিভিন্ন নথি ও ডিগ্রির ভিত্তিতে ওই পাঁচ জন পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন (Registration) নিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা করছিলেন তাঁরা। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েক জনের নিজস্ব নার্সিংহোম রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। বাকি দু’জনের একজন উত্তর ২৪ পরগনা এবং অন্য জন পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা। অভিযোগের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ভুয়ো নথি ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করল কাউন্সিল। 


 রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার পূর্ব শ্রীপতিনগরের বাসিন্দা শেখ উনুশ হাসান, যাঁর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০৮০। কুলতলির ভুবনেশ্বরীর বাসিন্দা উত্তম মাইতির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৩১০৮। মন্দিরবাজারের বাঁশিধরপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা হাফিজুর হালদারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৭৩৪৮। এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার চড়ুইগাছির বাসিন্দা জুলফিকার মণ্ডলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮৯০২১ এবং পূর্ব বর্ধমানের তালিতের আলমপুরের বাসিন্দা শেখ সায়দুল হকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৮০১৯৮।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি, সম্পাদক, রেজিস্ট্রার, সদস্য-সহ একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ দায়ের করেছেন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের (এপিএইচএন) সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকিও পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগপত্রে কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায়, সম্পাদক সুশান্ত রায়, সদস্য তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি, রেজিস্ট্রার মানস চক্রবর্তী-সহ একাধিক আধিকারিকের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

মূলত, কী ভাবে অভিযুক্তদের রেজিস্ট্রেশন অনুমোদিত হল, তাঁদের জমা দেওয়া শিক্ষাগত নথি আদৌ যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজ ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এই প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে, রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, এর পিছনে আর্থিক লেনদেন বা কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের দাবি উঠেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশনের ঘটনা বাড়ার অভিযোগ তুলে রাজীব পাণ্ডে প্রশ্ন তুলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই পুলিশি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাঁচ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং এফআইআরের সুপারিশের পর এবার তদন্ত কোন পথে এগোয় এখন সেটাই দেখার।