কুণাল ঘোষ 

আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে দুই কেন্দ্রে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দিন। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে আর রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে। যদি বিজেপিকে হারাতে হয়, তা হলে অন্য কোনও প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীদের ভোট দিন। অন্য কাউকে ভোট দিলে তাতে ঘুরপথে বিজেপির সুবিধে হবে। বিজেপি চায় বিরোধী ভোট ভাগ করার জন্য তাদের বি-টিম, সি-টিমকে দাঁড় করিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। দয়া করে তাদের ফাঁদে ভুল করেও পা দেবেন না। 

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর— দুই কেন্দ্রেই বিজেপির কাছে মূল শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকেরা। তাই পুলিশ দিয়ে দমনপীড়ন, গ্রেফতার, রাতে বাড়িতে ঢুকে হুমকি শুরু হয়েছে। তৃণমূলের কর্মীদের এলাকাছাড়া করতে সবরকম চক্রান্ত চলছে। কিন্তু তার পরেও কর্মীরা লড়ছেন। মানুষ জননেত্রীকে সমর্থন করছেন। 

কেন্দ্রের ও রাজ্যের দুই বিজেপি সরকারের উপর মানুষ বিরক্ত। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী থেকে শুরু করে মানুষের যে প্রায় একশোটি সামাজিক সুরক্ষাকবচ করে গিয়েছিলেন, তা আজ বিঘ্নিত। মানুষ দেখতে পাচ্ছেন বিজেপির জনবিরোধী মুখ। নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় এসেছিল। এখন বাংলা, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি, সম্প্রীতি, সংহতি, সংস্কৃতি, ঐক্যের উপর আঘাত আসছে। এসবের বিরুদ্ধে নেত্রীর নেতৃত্বে তৃণমূল প্রতিবাদ করছে। তাই কিছু লোভী, বেইমান, গদ্দারকে ব্যবহার করে বিজেপি একটা বি-টিম বানিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কিন্তু কর্মীরা এবং মানুষ সচেতন। তাই বিজেপিকে হারাতে গেলে সব ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীদের দিন। ধর্মের নামে ভেদাভেদ নয়, পুলিশরাজ নয়, গুন্ডারাজ নয়, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে জননেত্রীর হাত শক্তিশালী করুন। তাঁর প্রার্থীদের ভোট দিন। 

নন্দীগ্রামে যিনি বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, তাঁর প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমাদের শুধু বক্তব্য মঞ্চে এত কথা বলা হচ্ছে কিন্তু যাঁকে হত্যা করা হল তার বিচার কোথায়? কারা হত্যা করল? হত্যারহস্যের সমাধান এখনও কেন হল না? তাঁর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে, সেটা তাদের দলের ব্যাপার, সে-বিষয়ে কিছু বলব না। প্রথম দিনই তো কোনও সাতপাঁচ না ভেবে বলা হয়েছিল এই হত্যা তৃণমূল করেছিল! পরে দেখা গেল, তৃণমূল ত্রিসীমানায় নেই। নির্দিষ্ট একটা চক্রের মধ্যে থেকে হয়েছে। পুলিশমন্ত্রী নিজেই তো মুখ্যমন্ত্রী, একজনের মৃত্যুর এতদিন পরেও তাঁর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হল না কেন? এখন সেদিক থেকে মুখ ঘোরাতে তাঁর মাকে প্রার্থী করা হল। 

আমরা এর আগে অভয়ার ক্ষেত্রেও দেখেছি। যখন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়ে গিয়েছে, তখন রাজনীতি বজায় রাখার জন্য বলা হয়েছে— উই ওয়ান্ট জাস্টিস এবং নিহত তরুণীর মা-কে প্রার্থী করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তা হলে এখন ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ কোথায় গেল? তদন্তভার কার হাতে? হয় রাজ্যের, না হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে। দু-জায়গাতেই তো ক্ষমতায় বিজেপি! এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলে দেন অমুক করেছে, তমুক প্ল্যান করেছে! তা আপনাদের ধরতে কে বারণ করেছে? এজেন্সি তো আপনাদের হাতে। ভোটের সময় মৃতের মা-কে দাঁড় করিয়ে বলছেন অমুকরা করেছে, কিন্তু তথ্য প্রমাণ কোথায়? মৃত্যুরহস্য রহস্যই থেকে গেল, শুধু ভুল ন্যারেটিভ তৈরি করে মানুষকে ভুল দিকে পরিচালিত করা হচ্ছে। মুখে বলছেন এক লাখ ভোটে জিতব, কিন্তু একজন খুনিকে সামনে এনে মানুষের কাছে খুনের রহস্য উন্মোচন করতে পারলেন না! কোনটা মায়ের কাছে বেশি দরকার ছিল? কে গুলি চালিয়েছে, কী কারণে গুলি চালিয়েছে সেই তথ্য কোথায়? এতদিন হয়ে গেল! সরকার কাদের? পুলিশ কাদের? সিআইডি কাদের? কেন্দ্রীয় এজেন্সি কাদের? আজ শুভেন্দু অধিকারী আপনি রাজনীতির ভাষণ দিচ্ছেন কেন? আপনার কাছে যদি তথ্য, প্রমাণ থাকে তাহলে এতদিন ব্যবস্থা নেননি কেন? এখন রহস্যজনকভাবে মৃত এক ব্যক্তির মা-কে প্রার্থী করা হয়েছে, নিশ্চয়ই আপনারা আবেগকে কাজে লাগাতে চাইছেন। আপনারা সেই দিক থেকে বিষয়টা দেখছেন। কিন্তু জাস্টিস কোথায়? হত্যা-রহস্যের সমাধান কোথায়? সেই তথ্য মানুষের সামনে আনুন, আর কতদিন সময় লাগবে আপনাদের? মাঝে তো একজনকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে বলা হল— ভুল লোককে ধরা হয়েছে। তাকে ছেড়েও দিতে হল। ফলে যিনি প্রার্থী হয়েছেন তাঁর সম্পর্কে একটি শব্দও বলব না, তিনি পুত্রহারা, তাঁকে যদি বিজেপি প্রার্থী করে থাকে, সেটা বিজেপি-র ব্যাপার। কিন্তু যেটা প্রশ্ন— তা হলে বিচারটা কোথায়? হত্যা রহস্যের সমাধান হল না। নিহত ব্যক্তির মাকে প্রার্থী করে সেই আবেগকে এখন ব্যবহারের চেষ্টা হচ্ছে!