বাবাকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় সুবিচারের আর্জি নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের বাসিন্দা শেখ আব্দুল হাফিজ। মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সঙ্গে ছিল এফআইআর কপি, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সহ ঘটনার একাধিক জরুরি নথিপত্র। শাসক দলের তরফে এই সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হলেও, নিহতের ছেলে অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় কোনও রকম দলীয় রং না দেখার আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। 

ঘটনার সূত্রপাত গত আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আব্দুল হাফিজ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সক্রিয় কর্মী। গত ১৯ জুলাই দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পর গত ১৩ আগস্ট দলীয় নির্দেশে গ্রামেরই করিশুণ্ডা পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের খোঁজখবর নিতে যান হাফিজ। অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কাশীনাথ দে তাঁকে পরের দিন আসতে বলেন এবং পরে স্থানীয় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাফিজের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেন। 

অভিযোগ উঠেছে, সেই রাতেই একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী লাঠি, রড ও শাবল নিয়ে হাফিজের বাড়িতে চড়াও হয়। হাফিজ কোনও মতে বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রাণে বাঁচলেও দুষ্কৃতীদের রোষ গিয়ে পড়ে তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের ওপর। বৃদ্ধ মাফিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করায়। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

ঘটনার খবর পেয়েই নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তিনি নিজে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং যাবতীয় নথি নিয়ে কালীঘাটে দেখা করার পরামর্শ দেন। সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন কালীঘাটে পৌঁছন হাফিজ। 

সাক্ষাৎ পর্ব শেষে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন স্পষ্ট জানান, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। তাঁর কথায়, এর মধ্যে কেউ যেন রাজনীতি না খোঁজেন। এখানে কোনও তৃণমূল বনাম সিজেপির বিষয় নেই। ছেলেটির অপরাধ ছিল সে শুধু একটি স্কুলে পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিল, আর তার জেরে তাঁর বাবাকে বিজেপির হামলায় প্রাণ হারাতে হল। দলমত নির্বিশেষে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনও সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।