বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে মোট কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। 

মঙ্গলবার হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানির সময় দিলীপ মণ্ডলের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে কার্যত প্রতিদিন নতুন নতুন এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মোট ১১টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এর মধ্যে চারটি এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিধায়ক। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, আগামী ২৩শে জুলাইয়ের মধ্যে পুলিশকে আদালতকে জানাতে হবে যে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি এফআইআর রুজু হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে বিরোধীদের উদ্দেশে লাগাতার হুমকিসুলভ মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এলাকায় অশান্তি পাকানো এবং প্ররোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর খোঁজ শুরু করে পুলিশ। এর মাঝেই বিধায়কের পুত্র অর্ঘ্য মণ্ডলকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করে পুলিশ। অর্ঘ্য ছাড়াও আরও চারজনকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। 

ভোটের ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়কের খোঁজে পৈলানে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার বিশাল বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তাঁর বাড়ির সামনে দেখে তড়িঘড়ি গা ঢাকা দেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা বেঙ্গল এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওড়িশার পুরীর একটি হোটেল থেকে বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার প্রকৃত সংখ্যা জানতে তৎপর হল আদালত।