রাজ্যজুড়ে বেআইনি ও ভুয়ো লটারির রমরমা কারবার রুখতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করছে, তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। হুগলি জেলায় ভুয়ো লটারির ফাঁদে পড়ে বহু সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, এই দাবি তুলে আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক আইনজীবী। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই রাজ্য পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত।
এ দিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ হুগলির জেলাশাসককে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১০ অগাস্টের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপার ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিএসপি-র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার সমস্ত থানাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিতে হবে। একই সঙ্গে, ভুয়ো লটারির কারবার বন্ধে কী কী আইনি পদক্ষেপ করা হল, তা জানিয়ে আদালতে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
আদালতে রাজ্যের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়, পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ করে চার্জশিটও পেশ করেছে পুলিশ। রাজ্যের আইনজীবী জানান, ইতিমধ্যেই হুগলির গোঘাট থানা এলাকা থেকে কার্তিক রায় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি লটারির নথি উদ্ধার হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, জেলার প্রতিটি থানা যাতে এই চক্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ও কড়া পদক্ষেপ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী পার্থ সারথি দাস এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন। মামলাকারীর অভিযোগ, আসল লটারি সংস্থার টিকিট অনুকরণ করে হুগলি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জাল লটারির টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এই চক্রের জাল ইতিমধ্যেই হুগলির বলাগড়, পোলবা, গুড়াপ, চুঁচুড়া, সিঙ্গুর, হরিপাল, মগরা ও আরামবাগ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, অনলাইনের মাধ্যমেও এই প্রতারণার ফাঁদ ছড়ানো হচ্ছে, যার জেরে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হুগলি ছাড়িয়ে অন্য জেলাগুলিতেও এই চক্রের জাল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে কড়া পুলিশি হস্তক্ষেপের আর্জি জানান মামলাকারী।
















