বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে কেন এত তাড়াহুড়ো? হাইকোর্টে বিধানসভা অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল হাইকোর্ট। কোন পক্ষ আসল তৃণমূল আর কোনটি নয়, তা ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের আগেই স্পিকার বিরোধী দলনেতা ঠিক করে দিলেন! এটা কীভাবে সম্ভব? মঙ্গলবার সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশের আবেদন খারিজ করে দেন। 

তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন ওঠে। তা সত্ত্বেও স্পিকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধন্তের বিরোধিতায় মামলা দায়ের করেছিলেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শুনানি শেষে রায়দানে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার সিদ্ধন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেননি বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। পরে সিঙ্গল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। এদিন সেই মামলারই শুনানি ছিল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোন পক্ষটি আসল রাজনৈতিক দল (তৃণমূল), তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। কে বিরোধী দলনেতা হবেন তা স্পিকার নির্ধারণ করবেন। কিন্তু কমিশনের সেই সিদ্ধান্ত ছাড়াই স্পিকার তড়িঘড়ি করে দলের একটি অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে ঘোষণা করলেন! কীভাবে একজনকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে দিলেন স্পিকার? বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলির আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। যখন কোনও দলত্যাগ বিরোধী আবেদন ঝুলে নেই, তখন দশম তফসিল প্রযোজ্য হতে পারে না। আগামী কাল বুধবার ফের এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।