ট্রাইবুনালে দু’মাসে নিষ্পত্তি মাত্র ৩০ হাজার, প্রশ্নের মুখে পরিকাঠামো -বিচারপতিদের ভূমিকা

পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থাপনা! ‘অনভ্যস্ত’ প্রাক্তন বিচারপতিরাও। ফল একটাই, নাজেহাল সাধারণ মানুষ। বিনা দোষেই কোর্ট আর ট্রাইবুনাল নিয়ে একপ্রকার দিশেহারা লক্ষাধিক মানুষ। SIR প্রক্রিয়ায় বাংলায় নাম বাদ পড়েছে আনুমানিক ৯১ লক্ষ। প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ফের নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু গত দু’মাসে মাত্র ৩০ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র এক শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, এই গতিতে কাজ চললে আগামী ১৫ বছরেও সব আবেদনের নিষ্পত্তি হবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে কী দীর্ঘমেয়াদি কোন পরিকল্পনা রয়েছে এর পেছনে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কেন থাকবে না সঠিক পরিকাঠামো? যে সকল বিচারপতি গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে আছেন কেনই বা তাঁরা এতটা অনভ্যস্ত এতদিন পরেও।
Sponsored

প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI ) সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাতের পর ট্রাইবুনাল গঠনের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট (SC)। বিচারপতিদের মাথায় রেখে মোট ২০টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হলেও দু’জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইতিমধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন। এখন ২৪টি জেলার জন্য ১৮টি ট্রাইবুনালে প্রতিদিন মাত্র ৫০-৬০ আবেদনের নিষ্পত্তি হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এই প্রক্রিয়ায় বিরক্ত আধিকারিকেরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানাচ্ছেন, ভোটার তালিকা তৈরির কাজ কমিশনের। তাদের নির্দেশে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, বিডিও-সহ অন্য সরকারি কর্মীরা কাজ করবেন এটাই নিয়ম। জেলাস্তরের আধিকারিকরা ওই কাজে দক্ষ তাই প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া যেত। কিন্তু এভাবে তাঁদের হাত থেকে বিষয়টি কেড়ে নেওয়া খুব ভাল কাজ যে হয়নি সেই ব্যাপারে তাঁরা নিশ্চিত। প্রাক্তন বিচারপতিরা যে এই কাজে অভ্যস্ত নন সেই কথা কমিশনের মাথায় রাখা উচিত ছিল বলেই তাঁরা মনে করছেন।
Sponsored

বিচারপতিরায় বিষয়টিতে সহমত পোষণ করে পরিকাঠামোকে দায়ী করছেন। জানাচ্ছেন, অনেকের শুনানি প্রয়োজন থাকলেও নোটিস কী ভাবে দেওয়া হবে জানা নেই। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জেলাশাসকদের মারফত সেই নোটিস পাঠালেও তার জবাব কবে আসবে সেই বিষয়ে কেউ জানে না। নির্দেশনামা দেওয়ার কোনও সঠিক ওয়েবসাইট নেই। ট্রাইবুনালে শুনানির সুযোগ না-দিয়ে কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, বা অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। ফলে সময় দিতেই হবে। নাহলে ট্রাইবুনাল তুলে দেওয়া শ্রেয় বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। এদিকে ট্রাইবুনালে দ্রুত শুনানি চেয়ে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই নিয়ে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস জানিয়েছেন, ভোটার কার্ড খুব প্রয়োজনীয় একটি নথি। নতুন কিছু ভাবা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। পুরো কাজটা কমিশন করলে বিষয়টি সহজ হত। অনেক ক্ষেত্রে কমিশন নিজেদের ক্ষমতা দিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারত, জনরোষও নিয়ন্ত্রণে থাকতো; যেটা এখন অনেক সমস্যার হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
5h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
6h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
7h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
8h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
9h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
10h ago





