NEET-UG প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনের রেশ আছড়ে পড়েছিল কলকাতাতেও। বাম ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে মিছিল জমায়েতকে কেন্দ্র করে এক সময় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা চত্বর। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে আক্রান্ত হন একাধিক সাংবাদিকও। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশের হেনস্থার শিকার হন তাঁরা। ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার সন্ধেয় হাসপাতালে আক্রান্ত সাংবাদিকদের (Journalist) সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিকে দিল্লিতে পুলিশের ছোড়া ছররায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রের চোখ, আহত হয়েছেন বহু আন্দোলনকারী। দিল্লির বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? প্রশ্ন। আক্রান্ত ছাত্রকে পাশে নিয়ে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরব হন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)।
এদিন নিট প্রশ্নফাঁস, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল হয়। এরপর ধর্মতলায় ছাত্র সমাবেশও হয়। কিন্তু অবস্থান চলাকালীন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। অভিযোগ, বিক্ষোভ থেকে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে জুতো-বোতল ছোড়া হয়। পুলিশের গায়ে জল ছিটিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে কাঁদানে গ্যাসের সেল। খণ্ডযুদ্ধের মধ্যে পড়ে একাধিক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। তাঁদের হেনস্থা করার ছবিও লাইভ সম্প্রসারণ ধরা পড়ে। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধেয় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "শুক্রবার দিন... শুক্রবার দিন বিশেষ দিন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন না? শুক্রবার সব ছাড় আছে! ওই শুক্রবারের লোকেরাই করেছে, চিহ্নিত করেছি।" শুভেন্দুর অভিযোগ, "চিহ্নিত করেছি, মার্ক করেছি। এদের সঙ্গে নিটের (NEET) কোনও সম্পর্ক নেই। আগের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যিনি এখানে হেরেছেন, তিনি বারবার বলেন না শুক্রবার? শুক্রবার তো ওরা একটু করবেই। তাই আজকে সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন...। আমি আপনাকে বলি, ওসব ছাড়ুন। শুক্রবারেরাই... যারা করেছে চিহ্নিত হয়ে গেছে।" রাজ্য প্রশাসনিক প্রধান আশ্বাস দেন, "কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, এদের কী করতে হয় আমি জানি!"
এদিকে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের ঘটনার সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে কলকাতা প্রেস ক্লাব। বলা হয়েছে, "আন্দোলনের নামে টার্গেট রিপোর্টার ও চিত্রগ্রাহকরা। এটা খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা।" ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ কর্মসূচির ডাক দিলেও রাতে সেই অবস্থান তুলে নেয় এসএফআই।
এদিকে দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। তাতে চোখ নষ্ট হয়ে যায় এক ছাত্রের। তাঁকে পাশে নিয়েই এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের এই নির্মম আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, বিজেপিশাসিত দিল্লিতে পুলিশের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? অমিত শাহের মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ ছাত্রদের উপর এই আক্রমণের জন্য শাস্তি পাবে কি? প্রশ্ন সব মহলের।
















