বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলে আগামী ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে সামনে রেখে বাঁকুড়ায় কোমর বাঁধছে তৃণমূল। শনিবার বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে দলের নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশে লড়াইয়ের কড়া বার্তা দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত, পুরসভা বা জেলা পরিষদের মতো স্থানীয় স্তরের ক্ষমতা সহজে হাতছাড়া না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভেঙে পড়ার কিছু নেই, ঘুরে দাঁড়াতেই হবে। আমাদের নেত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আমরা লড়াই করতে জানি এবং লড়াই করেই আবার জিরো থেকে হিরো হব।

বাঁকুড়ার এই সাংগঠনিক বৈঠকে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বড়জোড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায়, সুখেন বিদ, অরূপ খাঁ, বিধান সিং সহ জেলার একঝাঁক প্রথম সারির নেতৃত্ব। বৈঠক থেকে নাম না করে দলত্যাগীদের তীব্র আক্রমণ শানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বা যেতে চান, তাঁরা আসলে বেইমান এবং গদ্দার। এই দলবদলুদের নিয়ে দল মোটেও চিন্তিত নয়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থীর দাবির কথা মাথায় রেখেই অরূপ চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরাজিত হওয়ার পর সেই অরূপ চক্রবর্তীই এখন অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

বিগত লোকসভা নির্বাচনে জেলায় দলের আশানুরূপ ফল না হলেও সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলার ডাক দেন শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সংগঠন তৈরি করতে করতে আটাশ বছর পার হয়ে গিয়েছে। এই বয়সে এসেও আমি নতুন করে সংগঠন তৈরি করতে পারলে, আপনারাও নিজের নিজের এলাকায় নতুন করে ময়দানে নামুন।

একই সঙ্গে কর্মীদের ভয়ডরহীন ভাবে কাজ করার সাহস জুগিয়ে সাংসদ আশ্বস্ত করেন, এই সভার পর বাড়ি ফিরলে অনেককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু তাতে দমে যাওয়ার কিছু নেই। জেলে বড়জোর পাঁচ থেকে দশ দিন আটকে রাখা যাবে। কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, মামলা হলে কর্মীরা হাইকোর্টে যাবেন এবং তিনি নিজেই তাঁদের জামিনের ব্যবস্থা করবেন। আগামী ২১শে জুলাই কলকাতার শহিদ সমাবেশ থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী নির্দেশ দেন, সেই বার্তার দিকেই এখন তাকিয়ে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।