ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচীর বিস্ফোরক অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে। দলেরই একাংশ নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি বিধায়কের দাবি, ব্যারাকপুরের প্রথম সারির কয়েকজন তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে মরিয়া এবং গেরুয়া শিবিরেরই কিছু নেতা তাঁদের সেই পথ মসৃণ করে দিচ্ছেন। আর এই দলবদলে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বিজেপি বিধায়ক।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৌস্তুভ বাগচী সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, ব্যারাকপুরে আমাকে নিয়ে অনেকের অনেক সমস্যা আছে। এখানকার তৃণমূলের বড় বড় নেতারা বিজেপিতে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। আমি নাম করেই বলছি, ব্যারাকপুরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস, টিটাগরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী এবং রাজা পাসওয়ান সহ একগুচ্ছ তৃণমূল নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছেন।

এর পরই বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, এ কথা বলতে আমার কোনও দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই যে, আমাদের দলেরই কিছু লোকেদের তাঁরা ধরেছেন, যাতে তাঁদের এই যোগদানে কোনও সমস্যা না হয়। কিন্তু অনেক জায়গাতেই তাঁরা সমস্যার মুখে পড়ছেন, কারণ কৌস্তুভ বাগচী ম্যানেজ হওয়ার মতো লোক নয়।

বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, তিনি এই দলবদলের তীব্র বিরোধিতা করায় ইদানীং তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, কৌস্তুভ বাগচীর নামে মাঝে মাঝে কিছু অপবাদ দিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা হচ্ছে। বাড়ির সামনে এসে বাড়ির লোকজনদের আতঙ্কিত করে গালিগালাজ করা হচ্ছে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এরপরেও যদি ওরা সফল না হয়, তাহলে আমার ওপর হয়তো প্রাণঘাতী হামলা আসবে।

মণীশ শুক্ল হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও পরোক্ষবার্তা দিয়েছেন কৌস্তুভ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি বা যতদিন ব্যারাকপুরে রয়েছি, এই ধরনের লোকজনকে এন্ট্রি দেব না। যাঁরা ব্যারাকপুরের মাটিতে চোর হিসেবে চিহ্নিত, যাঁরা মণীশ শুক্ল খুনের এফআইআর-এ নাম থাকা অভিযুক্ত, তাঁদেরকে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দলের কিছু নেতারা উদ্যোগী হতে পারেন, কিন্তু আমি যতদিন আছি ততদিন ব্যারাকপুরের মাটিতে সে জিনিস হতে দেব না।