যারা জেল খাটিয়েছে, তাদের সঙ্গে চা পান নয়: ক্ষোভ উগরে বৈঠক বয়কট বিজেপি বিধায়কের, ‘ঘরের কোন্দল’- কটাক্ষ কুণালের

বাঁকুড়া জেলা সংখ্যালঘু ভবনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত চতুর্দশ অর্থ কমিশনের পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি বিশেষ সমন্বয় বৈঠককে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক শোরগোল। এদিন বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বাঁকুড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষকে সম্পূর্ণ তাদের ‘ঘরের কোন্দল’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
Sponsored

জেলা সংখ্যালঘু ভবনে আয়োজিত ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জেলার ১২ জন বিধায়ক এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু বৈঠক চলাকালীনই হঠাৎ কক্ষত্যাগ করেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। অত্যন্ত চড়া সুরে নীলাদ্রিশেখর দানা বলেন, “দু’দিন আগেও এই বাঁকুড়ায় আমাদের দলের নিরীহ কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা চাপানো হয়েছে। যাঁরা আমাকে এবং আমাদের কর্মীদের এভাবে জেল খাটিয়েছে, অন্যায়ভাবে হেনস্থা করেছে, তাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা খাওয়ার মতো ছেলে আমি নই।”
Sponsored

নিজের রাজনৈতিক সততার দোহাই দিয়ে বিজেপি বিধায়ক আরও যোগ করেন, “আমি আজ নতুন দল করছি না। গত ৪০ বছর ধরে, অর্থাৎ জন্মলগ্ন থেকে বিজেপিটা করে আসছি। তাই যারা আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে, তাদের মুখোমুখি বসে অন্তত আমি কোনো কাজ করতে পারব না।” দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ ও সিদ্ধান্তকে তিনি পূর্ণ শ্রদ্ধা করেন জানিয়েও বিধায়ক স্পষ্ট করে দেন যে, দল অমান্য না করলেও তাঁর নিজস্ব একটা নীতি ও ভাবাবেগ রয়েছে এবং সেই জায়গা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Sponsored

নীলাদ্রিশেখর দানার এই অসন্তোষ ও কক্ষত্যাগের ঘটনাকে বিজেপির ‘ঘরের সমস্যা’ বলে উল্লেখ করে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপি নেতা আর বিজেপি কর্মীরা ভেবে দেখুন, দু’দিন আগে আমরা শুনেছিলাম যে তৃণমূলের জন্য নাকি দরজা বন্ধ। তারপর শুনলাম ভালো তৃণমূল আর খারাপ তৃণমূলের তত্ত্ব। তারপর শুনলাম চটি-চাটা তৃণমূল, বালিশ-চাটা তৃণমূল। তো তৃণমূল থেকেই আপনাদের লোক নিতে হচ্ছে, আপনাদের লোক নেই। আপনাদের আজকের মুখ্যমন্ত্রীও তো অভিজ্ঞ তৃণমূল নেতা, তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনে পরিণত হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।”
Sponsored

কুণাল ঘোষ আরও যোগ করেন, “শুধু তৃণমূল নয়, সিপিএম থেকেও নেতারা সেখানে গিয়েছেন, ফলে বিজেপির নিজস্ব বলতে কী রইল? আজ আপনারা এলাকায় এলাকায় যে কিছু উত্তেজনা তৈরি করছেন, ভেবে দেখুন, দু’দিন বাদে আবার কোনো তৃণমূল নেতাই আপনাদের ঘাড়ে এসে বসবেন। তখন আপনাদের তাঁরই নেতৃত্বকে মানতে হবে— আজকে কাউন্সিলর মানতে হবে, কালকে এমএলএকে মানতে হবে, পরশুদিন এমপিকে মানতে হবে। ওটা আপনাদের ঘরের সমস্যা। আমাদের ঘর বেইমান শূন্য হচ্ছে, আমরা বাঁচছি। কিন্তু বেইমানদের নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে বিজেপি এখন নিজের ঘরের সমস্যা ডেকে আনছে।”
Sponsored

অন্যদিকে, এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনসূয়া রায় জানান, বৈঠক চলাকালীন কোনও বিধায়ক বেরিয়ে গিয়েছেন কি না, তা তাঁর নজরে পড়েনি। নীলাদ্রিশেখর দানার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও বিরোধ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। সভাধিপতির কথায়, “আমি সৌজন্যবশত ওঁকে ফোন করে বৈঠকে আসার অনুরোধ করেছিলাম। কেন তিনি চলে গেলেন, সে বিষয়ে মন্তব্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
Sponsored

Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
3h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
4h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
5h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
7h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
8h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
8h ago





