নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শনিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পদ্মপুকুরের সভা থেকে পুলিশের হাতে আটক হন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় সহ বেশ কয়েকজন। লালবাজার থেকে মুক্ত হয়েই রাজ্য প্রশাসনের একাংশ ও পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আদালত নির্দেশ দেওয়া মাত্রই কর্মসূচি বন্ধ করার পরও কেন পুলিশ এই ধরণের ‘অতিসক্রিয়তা’ দেখাল, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন কুণাল।
মুক্তি পেয়ে লালবাজারের বাইরে এসে কুণাল ঘোষ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমরা পুরোপুরি আইনি পথ মেনে সহযোগিতা করেছি। কোর্টের অর্ডার আসার পরেই আমরা সব কর্মসূচি থামিয়ে দিয়ে সকলকে শান্তভাবে বাড়ি ফিরে যেতে বলছিলাম। কিন্তু তারপরেও অকারণে অতিসক্রিয়তা দেখিয়ে আমাদের পুলিশ দিয়ে তুলে আনা হলো।" কুণাল স্পষ্ট জানান, পুলিশ বা প্রশাসন তাঁদের শত্রু নয়, তারা সরকারের নির্দেশ মেনেই দায়িত্ব পালন করছে। তবে কতিপয় পুলিশ আধিকারিকের ভাষা ও ঔদ্ধত্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আন্দোলন শেষ করার মুখে যখন আমরা দূর-দূরান্তের কর্মীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলাম, তখন পুলিশ এসে বলে— 'আপনারা যাবেন নাকি আপনাদের নিয়ে যাব?' এটা কি কোনো দায়িত্বশীল পুলিশের ভাষা হতে পারে? যদি কোনো সমস্যা থাকত, তবে আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো যেত।"
রাজ্য রাজনীতি ও বিধানসভার প্রসঙ্গ টেনে কুণাল বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের এভাবে অকারণে আটকে রাখা যাবে না। বিধানসভাতেও সত্যি কথাগুলো বলতে দেওয়া হচ্ছে না, কারণ ওরা জানে কুণাল ঘোষ গলার কাঁটা। সাজানো পুতুলনাচের মতো বিরোধী বানিয়ে রাখা হচ্ছে।" তৃণমূল নেতা জানান, জাতীয় স্বার্থে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কর্মীদের মনোবল এভাবে ভাঙা সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত, বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটক করার পর তাঁদের লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন। পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁরা লালবাজারে যান। তবে অভিযোগ, প্রায় ৪০ মিনিটের উপর লালবাজারের বাইরে অপেক্ষা করলেও তাঁদের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।
















