‘অকৃতজ্ঞতার রাজনীতি বাংলা মেনে নেবে না’, চন্দ্রিমাকে তীব্র আক্রমণ কুণালের

এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে নাম লেখালেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। লাইভ এসে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। কিন্তু এর মধ্যেই একযোগে গদ্দারদের আক্রমণ শানালেন কুণাল ঘোষ। যদিও এই প্রথম নয়, আগেও তাঁদের বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করেছেন তিনি। এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিশানা করে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, ''যখন এতগুলো দফতর তাঁর হাতে ছিল, তখন কেন অভিমান হয়নি? আজ কেন হঠাৎ খারাপ লাগছে? উনি কতগুলো দফতরের দায়িত্বে ছিলেন, এর মধ্যে ছিল অর্থ দফতরও। তখন কষ্ট হয়নি? তখন দুঃখ হয়নি? তখন অভিমান হয়নি? তখন কি একবারও বলেছিলেন, ‘আমি এই দফতর নেব না, আরও কয়েকজনকে দেওয়া হোক’? তখন তো মনে হয়নি।''
Sponsored

শুক্রবার তৃণমূল ভবন থেকে চন্দ্রিমা বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, ” আগেও ওঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ওইদিকে গিয়েছেন, এগুলো দেখেছি। তা সত্ত্বেও ওঁকে শ্রদ্ধা করতাম, ভালবাসতাম। কিন্তু কাল যখন এরকম একটা ঘটনা ঘটল, তখন দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদি আর কিছুক্ষণ বসে থাকতেন, আমরা পৌঁছে যেতাম। এমনকী, ওখানে কর্মীরাও অনুরোধ করেছিলেন দিদি আর কিছুক্ষণ বসে যান। তিনি বললেন আমি এসবে থাকব না। তারপরই গাড়ি ডেকে বেরিয়ে গেলেন। এটা তো প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কাম্য নয়।” স্বাভাবিকভাবেই এদিনের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ভিতরে থাকাকালীন কীভাবে ঋতব্রতরা ভবনের দখল নিলেন? ঋতব্রতদের ভবনের গেটে তালা দিতে সুবিধা করিয়ে দেওয়ার জন্যই কি ওরা ভিতরে থাকাকালীনই তিনি বেরিয়ে গেলেন? চন্দ্রিমা দাবি করেছেন, ‘'আমি কাকে বাধা দেবো? ওরা আমার কাছে আসেইনি। আমার ঘরে তো আসেইনি কেউ। তড়িঘড়ি করে বেরোইনি। রোজ যেমন থাকি, থেকেছি। তার পরে বেরিয়েছি।’' তবে এই দাবি যে একেবারেই গ্রহণযোগ্য হয়নি সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।
Sponsored

স্বাস্থ্য, অর্থ, আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব চন্দ্রিমাকে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেকগুলো মন্ত্রীর পদ পেয়েছিলেন। সেইসময় কেন মনে হয়নি। এত দফতর যখন হাতে ছিল, তখন কেন অভিমান হয়নি? এখন একটাই কথা নাকি দুঃখ লাগছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দেওয়ার জায়গায় ছিলেন, তখন ‘আমি আঁচল পেতে নেব’, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রাক্তন, তখন আমি অন্য শিবিরের দিকে। যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অস্বীকার করছে, আমি তাদের সঙ্গে বসবো, এটা কী করে হতে পারে। বাংলার মানুষ এই ভয়ঙ্কর অকৃতজ্ঞতার রাজনীতি সাপোর্ট করবে না। তিনি তো মন্ত্রিসভায় সব থেকে বেশি সময় ছিলেন। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতর পেয়েছেন। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও মন্তব্যে অভিমান হয়নি? গত ২২ জুন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ডাকা নিউ টাউনের হোটেলের মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। ফলে ছেলে যখন শিবির বদলেছেন, মা-ও যে সে পথে হাঁটবেন, তা বোঝা যাচ্ছিল।''
Sponsored

কিছুদিন আগেই দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় চন্দ্রিমাকে। কিন্তু, শনিবার সকালে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা। অভিযোগ করেছেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারতেন বাজেটে কী আছে, কারা বাজেট বানাতো তিনি জানতেন না। চন্দ্রিমার এই দাবি নস্যাৎ করে কুণাল ঘোষ বলেন, "হঠাৎ এই কথাগুলো বলার কোনও মানে আছে? অর্থমন্ত্রীরা বাজেট পেশ করার সময় বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন। উনি আইনের লোক, ওনাকে তো একটু সাহায্য নিতেই হবে। ডক্টর অসীম দাশগুপ্ত বা অমিত মিত্র হলে তবুও একটা কথা হতো। কিন্তু ‘জানতেন না’, ‘বই পাইনি’ এসব কথা সেদিন বলেননি কেন? পরে কেন? উনি তো বলতে পারতেন, ‘আমি এটা জানি না, আমি পড়বো না।’ আপনি অর্থমন্ত্রী ছিলেন, বাজেট পেশ করলেন, আপনার ছবি ছাপা হল, আর আজ বলছেন জানতাম না! এই লজিকটা ছেদো লজিক হয়ে যাচ্ছে, কেউ বিশ্বাস করবে না।" সবমিলিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফা নিঃসন্দেহে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘অকৃতজ্ঞতার’ রাজনীতি।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

ফেসবুক লাইভে 'অবমাননাকর' মন্তব্য! মদন মিত্রকে ১০ কোটির নোটিশ অভিষেকের
6h ago

চলতি অর্থবর্ষেই সপ্তম বেতন কমিশন! বকেয়া ডিএ নিয়েও বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
7h ago

শিক্ষক বদলিতে ‘সুপারিশ-সংস্কৃতি’ শেষ, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
7h ago

গ্রেফতারির পর আদালত থেকে জামিন পেলেন অসিত মজুমদার
9h ago

'প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা' নিয়ে উপভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর
10h ago

ক্যাথেড্রাল রোডমুখী জনস্রোত, মমতার পথেই জনতা
11h ago





