রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের একটি সংস্থা থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া অর্থ নিয়ে বিতর্ক উস্কে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজের প্রাপ্য রয়্যালটি বাবদই ওই অর্থ দেওয়া হয়েছে। এই স্বাভাবিক ও সম্পূর্ণ আইনি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর প্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন কুণাল ঘোষ।

তৃণমূলের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত বই লেখেন এবং তাঁর বই বিপুল বিক্রির কারণে তিনি নিয়মমাফিক রয়্যালটি পেয়ে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি বহু বছর ধরে গান লিখছেন ও সুর দিচ্ছেন। তাঁর সেই সব সৃষ্টি বিশিষ্ট শিল্পীদের কণ্ঠে জনপ্রিয় হয়েছে, পুজোয় পুজোয় বেজেছে, এমনকি গোল্ড ডিস্ক সম্মানও পেয়েছে। শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা বাণিজ্যিকভাবে সেই গানগুলি প্রকাশ ও বিতরণ করে থাকে। সেই বাণিজ্যিক বিক্রির সূত্রেই গীতিকার ও সুরকার মমতাকে প্রাপ্য রয়্যালটির একটি সামান্য অংশ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ‘মাস আর্ট’ তদন্তে এমনটাই অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তাঁর বাড়ি, দফতরে তল্লাশি অভিযানের পর বুধবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করে ইডি। আগামী সপ্তাহে ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানেই এসেছে মমতার প্রসঙ্গ। 

কুণালের স্পষ্ট দাবি, এই লেনদেনে কোনও অস্বচ্ছতা নেই। ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা যথাযথভাবে টিডিএস (TDS) কেটে, চেক বা ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ আইনি পথে ওই পারিশ্রমিক মিটিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতি বছর তাঁর আয়কর বিবরণীতে (আইটি রিটার্ন) এই আয়ের হিসাব প্রদর্শন করেছেন। কুণাল ঘোষের প্রশ্ন, “ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা কী করেছে বা না করেছে, তার সঙ্গে মমতার সম্পর্কের কী যোগ? একজন স্রষ্টা যদি তাঁর সৃষ্টির আইনি রয়্যালটি পেয়ে থাকেন এবং তা আয়করে দেখানো হয়, তবে এই বিকৃত প্রচারের অর্থ কী?”

হঠাৎ এই পর্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নাম জড়িয়ে এই প্রচার সামনে আসার নেপথ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল শিবির। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে যখন দেশ জুড়ে রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী মঞ্চকে ঐক্যবদ্ধ করতে সরব হয়েছেন, ঠিক তখনই বিজেপি নেতৃত্ব ভীত হয়ে পড়েছে। তাঁর কটাক্ষ, “কেন্দ্রীয় সরকার, ইডি এবং কমিশনের অশুভ আঁতাতের এটি একটি নিছক ‘প্যানিক রিঅ্যাকশন’। রাজনৈতিক ভাবে এঁটে উঠতে না পেরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কালিমালিপ্ত করার মরিয়া চেষ্টা চলছে।”