বৃহস্পতিবার রথের দিন সুরুচির খুঁটিপুজো। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্গাপুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু ফের দেখা গেল কোনও বার্তার সাথে কাজের কোন মিল নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুরুচি সংঘের নতুন কমিটি ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। বুধবার নিউ আলিপুরে ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, নতুন কমিটি তাঁদের মতামত ছাড়াই গঠন করা হয়েছে এবং সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান। নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সৌরভ সিকদার। শুধু তাই নয়, অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাস ঘনিষ্ঠদেরও কমিটিতে রাখা হয়েছে। এখানেই স্থানীয়দের প্রশ্ন দমদমের বিধায়ক সৌরভ সিকদার নিউ আলিপুরের এই পুজোর দায়িত্ব নিতে এলেন কেন।

বহুদিন ধরে যারা এই পুজোর সাথে আত্মিকভাবে জড়িত তাদের দাবি বর্তমান কমিটি যদি বহাল থাকলে তবে কাল খুঁটিপুজো বয়কট করা হবে। কমিটি পরিবর্তন না হলে খুঁটিপুজো করতে দেওয়া হবে না এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই দুর্গাপুজো নিয়ে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন তিনি নিজে কোনও দুর্গাপুজোর সভাপতি হবেন না এবং কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্বও নেবেন না। সোশ্যাল হ্যান্ডেলেও লিখেছিলেন দুর্গাপুজো কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। পুজো কমিটির স্বাধীনতা, স্বতন্ত্রতা ও সর্বজনীন চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন বলেই তিনি মনে করেন সেই কথাও জানান। দলীয় নেতা, বিধায়ক ও সাংসদদেরও পুজোর দায়িত্ব না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

তবে শমীক জানিয়েছেন বিধায়ক স্থানীয় পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে পুজো কমিটির সভাপতিত্ব গ্রহণ করা সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এই বার্তার গুরুত্ব না দিয়েই সুরুচি সংঘের কমিটি তৈরী হয়ে যায় এবং সেটা ঘিরে তৈরি হয় সংশয়। এরপরেই সাধারণ মানুষজন রাস্তায় নেমে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। আপাতত মিটিংয়ে সমস্যার সমাধান না হলে কাল আদৌ খুঁটি পুজো হয় কিনা সেই দিকেই থাকছে নজর।