রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শিল্পায়নে জোর দিয়েছিল রাজ্য সরকার। শিল্পপতি বা বিনিয়োগকারীদের যাতে লাল ফিতের ফাঁসে না জড়াতে হয় তার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন প্রদান, শিল্প পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নবান্নের শীর্ষ মহলের মতে, এই পদক্ষেপগুলির ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে এবং শিল্প স্থাপনের জন্য রাজ্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
শিল্প দফতর সূত্রে খবর, শিল্প স্থাপনে আবেদনের সময়সীমা কমানো হচ্ছে। সিঙ্গল উইন্ডো স্টিটেম চালু করা হচ্ছে।একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ, রাস্তা, জল ও লজিস্টিক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, দ্রুত পরিষেবা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এই বিষেয় জানিয়েছেন, বড় শিল্পের পাশাপাশি এমএসএমই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলিতেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁদের মতে, ঘোষিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগের প্রকৃত অগ্রগতি আগামী দিনে শিল্পোন্নয়নের সাফল্য নির্ধারণ করবে।
শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের মতে, সরকার ও শিল্পপতিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। তবে এই দাবিগুলির বাস্তব ফলাফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং শিল্পোৎপাদনের পরিসংখ্যানের উপর।
















