একটা এনকাউন্টার, অনেক প্রশ্ন। বারুইপুরে ধর্ষণ- খুনের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের (Prabhash Mondal) পুলিশি এনকাউন্টারের মৃত্যুর পর থেকে একগুচ্ছ প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। ঘটনা পুনর্নির্মাণের সময় নির্বাচন থেকে অকুস্থলে থাকা পুলিশি ব্যবস্থা - সবটার মধ্যেই ধোঁয়াশা রয়েছে। এবার রাজ্য পুলিশকে (West Bengal Police) কাঠগড়ায় তুলে 'বাংলায় জঙ্গলরাজ চলছে' বলে সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mohua Moitra)। 

বারুইপুরে যেভাবে ষষ্ঠ শ্রেণীর নাবালিকাকে নির্যাতন করে খুন করা হয়েছে তার প্রতিবাদে জেলা তথা রাজ্যজুড়ে বাড়ছে বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। তখনই দেখা গেল এনকাউন্টারে মৃত্যু প্রভাসের। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বারুইপুরে গিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিলেন। ঠিক তার বারো ঘণ্টা যেতে না যেতেই এনকাউন্টারের ঘটনায় অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বারুইপুরের ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাসই পুলিশকে জানিয়েছিলেন কোথায় মৃতদেহ লোপাট করা হয়েছে, কারা কারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে ইত্যাদি। এবার কি তাঁকে সরিয়ে দিয়ে আসল সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হল? সত্যিই কি এনকাউন্টার করা ছাড়া পুলিশের হাতে আর কোনও উপায় ছিল না? মঙ্গলবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ যা যা দাবি করছে তার সত্যতা কতটা তা জানা যাবে তদন্তের পরেই। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জিডি করা হয়েছে।

বুধবার সকালে মহুয়া এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এনকাউন্টারে নিহত! পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, রাজ্যে কী চলছে? বাঙালিরা দয়া করে নতুন বাংলাকে স্বাগত জানান— উত্তরপ্রদেশ ২.০। এটা জঙ্গলরাজ।' এখনও পর্যন্ত পুলিশমন্ত্রীর তরফ থেকে এই ঘটনা নিয়ে কোনও বিবৃতি মেলেনি। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, পুলিশের প্রশংসা করার পাশাপাশি কামদুনি ফাইল পুনরায় খোলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধও করেছেন।