কালীঘাটের নিজের বাসভবন থেকেই বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত দিনে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া মহিলাদের ওপর অত্যাচারের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি যখন থেকে এই ঘটনা শুনেছি, খুবই উদ্বিগ্ন। এর আগেও মেদিনীপুরের ভগবানপুর, পটাশপুর, কোচবিহার, দুর্গাপুর, বেহালা, দিনহাটা বা পানিহাটিতে একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আর আজ বারুইপুরের ঘটনা এক মারাত্মক রূপ নিয়েছে। সাধারণ মানুষ সহ্য করতে করতে আজ তাঁদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। 

তৃণমূল নেত্রী জানান, কোনো রকম রাজনৈতিক হাঙ্গামা না করে সম্পূর্ণ একা গিয়ে ওই শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশি বাধায় তা সম্ভব হয়নি। তাই সশরীরে বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের কাছে পৌঁছাতে না পারলেও, ফোনে ইতিমধ্যেই ওই শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকলের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং তাঁদের পাশে থাকার সবরকম আশ্বাস দিয়েছেন খোদ নেত্রী। 

এদিকে রবিবার সন্ধে থেকেই কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেমোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।সিআরপিএফ, আরপিএফ-এর পাশাপাশি আইবি, এসবি এবং সিআইডি-র শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে কার্যত দুর্গের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। চলে ক্রমাগত রুট মার্চ। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, আমার বাড়ির সামনে কেন রুট মার্চ চলছে? এখানে তো ১৪৪ ধারা জারি নেই। প্রায় এক হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ, গুন্ডা দমন শাখা থেকে শুরু করে গাঁজা দমন শাখার পুলিশ কেন এখানে এসে জমায়েত করল? মুখে না বললেও, কার্যত আমাকে নজরবন্দি বা হাউস অ্যারেস্ট করে রাখারই কি চেষ্টা হচ্ছে না? 

নিজের নিরাপত্তা বলয়হীন সাধারণ জীবনযাত্রার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ক্ষুব্ধ নেত্রী বলেন, আমি তো কোনো চোর বা ডাকাত নই। জীবনে কোনোদিন দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করিনি। আমি তো একা থাকি, আমার কোনো নিরাপত্তাও নেই। তাহলে আমাকে নিয়ে এত ভয় কেন? যদি নজরবন্দি করতেই হয়, তবে নোটিফিকেশন জারি করা হচ্ছে না কেন? রাতের অন্ধকারে এই বিপুল পুলিশি সক্রিয়তাকে শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন বলেও আখ্যা দেন তিনি। 

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবিধানের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তৃণমূল নেত্রীর তোপ, আমি জানি না এরা কী চায়! দেশে কি আর্টিকেল ১৪, ১৯ কিংবা ২১ আর থাকবে না? শুধু কি এক পক্ষই থাকবে? এর পরেই বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, অন্য পার্টি গেলে সাত খুন মাপ, আর আমার বেলায় তৃণমূলকে আটকানোর চেষ্টা! আসলে আমরাই অরিজিনাল তৃণমূল কংগ্রেস, তাই আমাদের এত ভয়। এরা বেইমান বা গদ্দারদের ভয় পায় না। যারা বিজেপির সাথে তলে তলে হাত মিলিয়ে চলে, তাদের মিছিল-মিটিং করতে দেওয়া হয়, অথচ আমাকে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেওয়া হয় না।