একুশে জুলাই একটা আবেগ। প্রাণের আবেগেই মানুষ আসেন একুশের শহিদ সমাবেশে। কিন্তু বিজেপি বহিরাগতদের এনে বাংলার সেই আবেগকে কলুষিত করছে। বেইমানদের সভা ভরাতে বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লোক আনছে বিজেপি। সোমবার তারামণ্ডল চত্বরে একুশের সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে বিজেপির ষড়যন্ত্র ফাঁস করলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

নেত্রী বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ একুশে জুলাইয়ের এই বিশেষ দিনে ধর্মতলায় আসতেন। তাঁরা আসতেন প্রাণের টানে। আমরা তাই বরাবরের মতো ধর্মতলায় এই সভা করার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি আমাদের। এরপর আমরা মেয়ো রোড চেয়েছিলাম শহিদ সমাবেশের জন্য। তাও দেওয়া হয়নি। কোর্টের অনুমতিক্রমে আমরা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি পেয়েছি। তারপরও আমরা যেমন ছিলাম, যেমন আছি এবং তেমনই থাকব। আমরা মানুষের সাথে থাকব, কর্মীদের সাথে থাকব। আগামীকাল আমাদের নতুন করে পথ চলা শুরু করার দিন। তাই বলছি, বহিরাগতদের দিয়ে বাংলাকে কলুষিত করবেন না। বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করুন। বিজেপির দাক্ষিণ্যে বেইমানরাও একুশের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন আবার ওদের সভা ভরাতে বিজেপি ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে লোক ঢোকাচ্ছে। 

নেত্রী বলেন, একুশে জুলাইয়ের এই শহিদ-তর্পণকে কেন্দ্র করে চক্রান্ত হতে পারে। সতর্ক থাকুন। কেউ যেন চক্রান্ত করতে না পারে। সে ব্যাপারে নজর রাখুন। মহিলারা অনেক কষ্ট করে আসেন। তাদের নিরাপত্তার দিতে বিশেষ খেয়াল রাখুন। তাঁর কথায়, এটা কর্মীদের আবেগ। অ্যারেস্ট করে, টাকা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে এই আবেগকে দমিয়ে রাখা যাবে না। অন্তরের টান, প্রাণের আবেগেই মানুষ আসবেন একুশের সমাবেশে। তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, অনেক কর্মীদের ট্রেনের টিকিট দেওয়া হয়নি। খাওয়া ব্যবস্থা নেই, থাকার জায়গা নেই, তা সত্ত্বেও সব কিছু উপেক্ষা করে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা। 

সোমবার সকাল থেকেই একুশের মঞ্চ বাঁধার কাজ ও অন্যান্য প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রয়েছেন কর্মী-সমর্থকরাও। বিকেলে নেত্রী সেখানে আসতেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস-উন্মাদনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, উপাসনা চৌধুরীরা। তাঁরাও সকাল থেকে দফায় দফায় মঞ্চের প্রস্তুতি দেখাশোনা করেন।