পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলার ন্যায়বিচারের দাবিতে চলা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে এবার পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭ দিনে পা দিল সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলন। ক্রমশ অবনতি হচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থার। দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা এমতাবস্থায় তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন যদিও দায় স্বীকার তো দূর, কেন্দ্রীয় সরকারের বিন্দুমাত্র হেলদোল নেই। এবার ফোনে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এই আন্দোলনের প্রতি নিজের সহযোগিতা প্রকাশ করেছেন তিনি। নেত্রীর সুদৃঢ় সঙ্ঘবদ্ধতা ও সহমর্মিতাকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমাদের আন্দোলনের প্রতি সম্প্রীতি, আন্তরিক উদ্বেগ এবং সমর্থনের জন্য আমি মমতা দিদিকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের এই লড়াইয়ে তাঁর এই সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে কেন্দ্রের নীরবতা ও উদাসীনতার প্রতিবাদে দিল্লিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন সোনম। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানে যোগ দিয়ে টানা অনশনের ফলে সোনমের ওজন কমেছে প্রায় ৮.২ কেজি। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে দাঁড়িয়েছে ডেসিলিটার প্রতি মাত্র ৬৭ মিলিগ্রামে। রক্তচাপ ১০৭/৭০। তবে এত কিছুর মধ্যেও নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, সোমবার যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চে গিয়ে সোনমদের এই লড়াইয়ের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন অরুন্ধতী রায়, নাসিরুদ্দিন শাহ ও রত্না পাঠক শাহ, অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। তাঁরা সোনমের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি কোনও গান্ধী নই, বা কোনও নায়কও নই। আমি অতি সাধারণ একজন মানুষ। সকলকে অনুরোধ নাগরিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করুন।”
প্রসঙ্গত,আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ’ জনতা পার্টি। আগেও মঞ্চ থেকে অভিজিৎ একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন বিষয়টিকে যেন অহংকারের লড়াই হিসেবে না দেখা হয়। এখানে মানুষের জীবন বাজি রাখা হয়েছে। ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়। কিন্তু তারপরেও কেন্দ্রের কোন সদর্থক ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি।
















