Site Logo

বরাদ্দ টাকা না মেলায় মেদিনীপুরের অঙ্গনওয়াড়িতে নোটিশ ঝুলিয়ে বন্ধ ডিম-সবজি

EBBS Desk··1 min read
বরাদ্দ টাকা না মেলায় মেদিনীপুরের অঙ্গনওয়াড়িতে নোটিশ ঝুলিয়ে বন্ধ ডিম-সবজি

বরাদ্দ টাকা না মেলায় এবার মেদিনীপুর শহরের একের পর এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ঝুলল নোটিশ। সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, বকেয়া টাকা না মেলা পর্যন্ত শিশুদের পাতে আর ডিম কিংবা সবজি দেওয়া সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, আপাতত অঙ্গনওয়াড়ির পুষ্টিকর খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে অতি প্রয়োজনীয় ডিম ও টাটকা সবজি। অন্তঃসত্ত্বা, প্রসূতি মা এবং শিশুদের অপুষ্টি দূর করতে যেখানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ডিম দেওয়া বাধ্যতামূলক, সেখানে এমন নোটিসে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। 

Sponsored

Sranchi In Article

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী এবং সহায়িকাদের অভিযোগ, গত প্রায় চার মাস ধরে ডিম ও সবজির কোনও টাকা পাননি তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে দোকানদারদের কাছ থেকে ধারে জিনিস নিয়ে কেন্দ্র চালানো হচ্ছিল। কিন্তু বকেয়া আকাশছোঁয়া হওয়ায় দোকানদাররাও আর ধার দিতে রাজি নন। এই অসহায় পরিস্থিতির কথা মেদিনীপুর সদর-গ্রামীণ সুসংহত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্পের (আইসিডিএস) আধিকারিকসহ বিভিন্ন স্তরে জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কর্মী ও সহায়িকাদের। আপাতত সরকারিভাবে সরবরাহ করা চাল ও ডাল দিয়ে নামমাত্র খিচুড়ি রান্না করেই শিশু ও মায়েদের মুখে তুলে দেওয়া হচ্ছে। 

Sponsored

Merlin In Article

ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বলেন, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁরা নিজেরাও প্রাপ্য ভাতা পাননি। অথচ কেন্দ্রের মা ও শিশুদের পুষ্টির কথা ভেবে নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে ডিম ও সবজি কিনতে হচ্ছিল। তাঁর কথায়, সরকারি নিয়মে ডিমের জন্য বরাদ্দ মাত্র সাড়ে ছয় টাকা, অথচ বাজারে এখন একটা ডিমের দাম প্রায় সাড়ে আট টাকা। দীর্ঘদিন ধরে পকেটের টাকা ঢেলে কেন্দ্রের পুষ্টির জোগান দেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ৭ জুলাই থেকে ডিম দেওয়া বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে প্রকল্প আধিকারিকের কাছে গণস্বাক্ষরিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন তাঁরা। একই চিত্র দেখা গিয়েছে কালিয়াগঞ্জ শহরের বয়রা কালীবাড়ি সংলগ্ন শিশু বিকাশ প্রকল্প আধিকারিকের দফতরেও। সেখানেও ক্ষুব্ধ কর্মী-সহায়িকারা স্মারকলিপি জমা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

Sponsored

Shyam Sundar In Article

প্রশাসনের তরফে অবশ্য এই আর্থিক সংকটের কথা আড়ালে রাখা হয়নি। সমস্যা যে তৈরি হয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা। এক আধিকারিক জানান, সমস্যার বিষয়টি ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্মী ও সহায়িকাদের বরাদ্দ টাকা দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কয়েকটি কেন্দ্রের জন্য ইতিমিধ্যেই টাকা এসে পৌঁছেছে এবং দ্রুত বিল তৈরি করে তা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের আশা, অর্থ মিললেই ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি, শিশুদের পাতে ফিরবে ডিম-সবজি। তবে যতদিন না তা বাস্তব রূপ পাচ্ছে, ততদিন পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে উপভোক্তা পরিবারগুলির।

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from রাজ্য

View All →