বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে এলাকা জুড়ে নিখোঁজের পোস্টার! শুধু নিখোঁজ হওয়াই নয়, পোস্টারে বিধায়কের অবিলম্বে পদত্যাগও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসিরহাটের গাছা, আঁখারপুর, ইটিন্ডা-সহ একাধিক এলাকায় বিধায়কের ছবি সম্বলিত এই পোস্টারগুলি লাগানো হয়েছে। এক-একটি পোস্টারে বিধায়কের বিরুদ্ধে এক-একরকম অভিযোগ তোলা হয়েছে। কোথাও লেখা হয়েছে, ভোটের পর থেকে এলাকায় বিধায়কের কোনও দেখা নেই। কোথাও আবার দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হলেও বিধায়ককে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না, তাই তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ চাই।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র। তাঁর দাবি, এটি পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিজেপি প্রার্থী হেরে গিয়েও নিজেকে বিজয়ী ভাবছেন এবং এলাকায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী, সমর্থক ও প্রধানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করার চক্রান্ত চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে রাজনৈতিক মহলে একে ঋতব্রত পন্থী ও মমতা পন্থী তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে চর্চা শুরু হলেও, বিধায়ক নিজে সেই তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন।
অন্য দিকে, বিধায়কের এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা সৌর্য বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এই পোস্টার লাগানোর পিছনে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই, কারণ এটি তাঁদের সংস্কৃতি নয়। তাঁর অভিযোগ, বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সম্পূর্ণ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নিজের অপরাধ ঢাকতেই তিনি দলবদলুদের আশ্রয় নিয়েছেন। বিধায়ককে মানুষের সুখে-দুঃখে পাওয়া যায় না, তিনি সবসময় বাড়িতেই থাকেন এবং এলাকার উন্নয়নে কোনও কাজ করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষই ক্ষুব্ধ হয়ে এই পোস্টার লাগিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একুশের সমাবেশের প্রাক্কালে বসিরহাটের রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।
















