কথায় কথায় ডবল ইঞ্জিন (Double Engine) সরকারের সুবিধার কথা বললেও তা মিলছে কোথায়? উদাহরণ শুক্রবারের বিধানসভায় (Assembly) পেশ হওয়া পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বাজেট (Budget)। পরিসংখ্যান বলছে, তৃণমূল আমলের তুলনায় এই বছর পুর বাজেট একধাক্কায় কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ! আর তাতেই প্রশ্ন, 'ডবল ইঞ্জিন সরকার' কি শুধুই গালভরা বুলি!
এদিন বাজেট ভাষণে লন্ডন স্ট্রিটের অনুকরণে কলেজ স্ট্রিট, পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য অত্যাধুনিক 'মা আহার' রেস্তোরাঁ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে শুরু করে জঞ্জালমুক্ত শহরের হাজারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ১৪,৬৬৯ কোটি টাকার হিসেব তুলে ধরেন তিনি। অথচ, এই বিপুল কর্মযজ্ঞের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তার ভাঁড়ারেই টান! পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বরাদ্দকৃত পুর বাজেটের চেয়ে এই অঙ্ক প্রায় ১০ শতাংশ কম।
কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের বন্যা বয়ে যাবে- এটাই ছিল বিজেপির প্রধান নির্বাচনী স্লোগান। কিন্তু তৃণমূল জমানার চেয়ে বাজেট কমে যাওয়ায় স্পষ্ট হয়ে গেল, কেন্দ্রের অনুদান বা 'আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড'-এর নামে যা বলা হচ্ছে, তা আদতে ফাঁকা আওয়াজ। একদিকে ৯টি নতুন মিউনিসিপ্যালিটি গঠন করা হয়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলা, নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং পাহাড় প্রমাণ জঞ্জাল পরিষ্কারের গালভরা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজেট কমিয়ে এই বিশাল পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব, তার কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা মন্ত্রীর ভাষণে নেই।
স্মার্ট সিটি, হিল টাউন ডেভেলপমেন্ট, কিংবা বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই জোনের মতো কথা শুনতে ভালো লাগলেও, ১০ শতাংশ কাটছাঁট হওয়া একটি বাজেটে এগুলি বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে ঘোর সংশয়ে ওয়াকিবহাল মহল।
বিধানসভার অন্দরে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা দাবি করেছেন যে, আগের সরকার নাকি শুধুমাত্র কলকাতাকেই বাজেটের ৫০ শতাংশ টাকা দিয়ে বাকি রাজ্যের পুরসভাগুলিকে বঞ্চিত করত। কিন্তু এখন সার্বিক বাজেট কমানোর ফলে তো সমবণ্টনের নামে গোটা রাজ্যের পুর পরিষেবাগুলিকেই কার্যত খাদের কিনারে ঠেলে দেওয়া হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, 'ডাবল ইঞ্জিন'-এর স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন বাজেটে কোপ বসানো আসলে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। মানুষের মৌলিক পরিষেবা— পানীয় জল, নিকাশি এবং পরিচ্ছন্নতার মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে বড় বড় কথা বলতে গিয়ে বর্তমান সরকার যে আদতে সাধারণ নাগরিকদেরই পরিষেবা কাটছাঁট করছে, এই ১০ শতাংশ কমে যাওয়া বাজেটই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। 'ডবল ইঞ্জিন' যে আসলে সাধারণ মানুষের কাছে 'ডবল ট্রাবল', তা এই বাজেট থেকেই জলের মতো পরিষ্কার!
















