আবার নতুন স্ক্যাম! ভারতের উচ্চশিক্ষা দফতরের নতুন সচিব হিসেবে নিযুক্ত প্রবীণ আইএএস (IAS) আধিকারিক নরেশ পাল গাংওয়ারের বিরুদ্ধে উঠেছিল "শসা চাষে ভর্তুকি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি"তে জড়িত থাকার অভিযোগ। জানা যায়, তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শসা চাষের জন্য সরকারি ভর্তুকি বাবদ ১.১৬ কোটি টাকা পেয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে তাঁর নিয়োগের পর বিষয়টি আবার ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সূত্রের খবর, গাংওয়ারের স্ত্রী, মা ও ছেলে যৌথভাবে ১.১৬ কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি পেয়েছেন। ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (NHB) দ্বারা পরিচালিত "উদ্যানজাত ফসলের উৎপাদন ও ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক উদ্যানপালনের উন্নয়ন" কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। বিরোধী ও সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে, এনএইচবি (NHB)-র নিয়ম অনুযায়ী শসা ও বাণিজ্যিক ফসলের ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ সাধারণত পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তাহলে ওনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?
ইতিমধ্যেই, উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে গাংওয়ারের নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মুখে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে এমন পদে নিয়োগ দেওয়া মানুষের মনে আস্থার সঙ্কট তৈরি করে—বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সৃষ্ট বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এর মর্মে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় এ যেন এক চরম প্রহসন! যখন দেশজুড়ে পরীক্ষার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি চাওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই সরকার নরেশ পাল গাংওয়ারকে নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দিল! ইনি সেই আইএএস (IAS) অফিসার, যার মা, স্ত্রী ও ছেলে যৌথভাবে 'ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড'-এর 'বাণিজ্যিক ফসল চাষে (শসা চাষ) উৎসাহদান' প্রকল্পের আওতায় সরকারি ভর্তুকি হিসেবে ১.১৬ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পেয়েছিলেন। এভাবেই প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহি নিশ্চিত করছেন।
















